দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি রুপির চেক বাউন্স মামলার রায় আজ শুক্রবার ঘোষণা করবেন দিল্লি হাইকোর্ট। এ মামলার শুনানির জন্য ইতোমধ্যে আদালতে পৌঁছেছেন অভিনেতা। আদালতের কার্যতালিকা অনুযায়ী বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা রায় ঘোষণা করবেন।
এর আগে গত ২ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে আদালত রায় মুলতবি রাখেন। শুনানিতে রাজপাল যাদব দাবি করেন, মামলাটির কারণে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থও পরিশোধ করেছেন বলে আদালতকে জানান তিনি।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অবনীত সিং সিক্কা বলেন, রাজপাল যাদব আগেই নিজের দায় স্বীকার করেছেন। তাই এখন আর আর্থিক দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালে করা রিভিশন আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের ১ হাজার ৮৯৪ দিন পরে করা হয়েছে এবং এ বিলম্বের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
আদালতের উদ্যোগে ছয় কোটি রুপিতে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও রাজপাল যাদব তাতে সম্মত হননি। পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিন কোটি রুপি পরিশোধের বিকল্প প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
শুনানির সময় বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা বলেন, বিচারক ভদ্র আচরণ করছেন বলে তাঁকে দুর্বল ভাবা উচিত নয়। তিনি মন্তব্য করেন, এভাবে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
রাজপালের বর্তমান আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায় আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল ইতোমধ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি পরিশোধ করেছেন। আগের আইনজীবীর ভুলের দায় বর্তমান পক্ষের ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালে নিজের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র আতা পাতা লাপাতা নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাঁচ কোটি রুপি ঋণ নেন রাজপাল যাদব। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হওয়ায় ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়।
ঋণ পরিশোধের জন্য দেওয়া সাতটি চেক বাউন্স হওয়ার পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইনের ১৩৮ ধারায় রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রী রাধা যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। ২০১৯ সালে সেশনস কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে।
পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করলে ২০২৪ সালের জুনে আদালত সাময়িকভাবে তাঁর সাজা স্থগিত করেন এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধে আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময়ের মধ্যে সুদ ও জরিমানা যোগ হয়ে মোট দেনার পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি রুপিতে পৌঁছে।
মামলা চলাকালে বিভিন্ন সময়ে অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৭৫ লাখ রুপি এবং পরে আরও অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দিলেও আদালত তা সন্তোষজনক বলে মনে করেননি।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি শেষ মুহূর্তে আরও সময় চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন, রাজপাল যাদব বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাননি।
পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি নতুন পরিশোধসূচি ও ২৫ লাখ রুপির একটি চেক আদালতে উপস্থাপন করা হলেও আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। পরে সেদিনই বিকেলে তিনি তিহার কারাগারে আত্মসমর্পণ করেন। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান এই অভিনেতা।
এদিকে মামলার আর্থিক সংকটে বলিউডের কয়েকজন তারকা রাজপাল যাদবকে সহায়তা করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সালমান খান, অজয় দেবগন, বরুণ ধাওয়ান ও সোনু সুদ।
জে আই