দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

খ্যাতিমান নাট্যভিনেতা ফারুক আহমেদ। মঞ্চ থেকে টিভি নাটক, চলচ্চিত্র কিংবা টেলিফিল্ম- সব মাধ্যমেই অভিনয়গুণে খ্যাতি অর্জন করেছেন। দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নেয়ার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিতেও বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। অভিনেতার বাইরে নিয়মিত লেখালেখিও করতে দেখা যায় তাকে। এরইমধ্যে বইও প্রকাশ করেছেন। কিছুদিন আগেই ঢাকা থিয়েটারের জন্য মঞ্চ নাটকে নির্দেশনা শুরু করেছেন গুণী এ অভিনেতা।
এ অভিনেতা সাধারণত কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। কাজ নিয়েই বিভিন্ন সময় আলোচনা ও শিরোনামে জায়গা করে নেন। নাট্যকার ও লেখক হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয়ের জন্য আলাদা পরিচিতি রয়েছে তার। আজ বুধবার এ অভিনয়শিল্পীর জীবনের একটি বিশেষ দিন, অর্থাৎ ২৫ মার্চ তার জন্মদিন। কিন্তু বিশেষ এই দিনটিতে অগুণিত ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী এবং ইন্ডাস্ট্রির সহশিল্পীরা শুভ কামনা জানালেও কখনো দিনটি উদযাপন করেন না তিনি।
জীবনের বিশেষ দিনটি কেন উদযাপন করেন না―এমন প্রশ্নে ভয়াল কালরাতের ঘটনার কথা জানান ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, দিনটি গণহত্যা দিবসের, তাই নিজের জন্মদিন উদযাপন করি না।
এ অভিনেতা বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, এটি আমরা সবাই জানি। ১৯৭১ সালে আমরা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি কোয়ার্টারে থাকতাম। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোহাম্মদপুর এলাকাতেই থেকেছি। তখন আমার বাবা ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। ওই সময় আব্বার স্কুল উর্দু ভাষার করতে চেয়েছিল। কিন্তু বীর বাঙালিদের জন্য বিহারিরা সেটি করতে পারেনি। এ জন্য রাতে বিহারিরা বড় বড় দা নিয়ে পাহারা দিতো। আর আমরা বাসায়ে খুব ভয়ে থাকতাম।
তিনি বলেন, আব্বা এমন পরিস্থিতিতে মার্চের একদিন পুরান ঢাকার কাগজিটোলা পাঠিয়ে দেন আমাদের। সেখানেই ২৫ মার্চের সেই কালরাত পাই। রাত ১২টার পর প্রথম গুলির শব্দ শুনতে পাই। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুলির শব্দ বাড়তে থাকে। ভয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলাম। পরদিন ২৬ মার্চ তো স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া। কিন্তু সেই ২৫ মার্চ কালরাত থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা যে নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা শুরু করল, যা দীর্ঘ ৯ মাস চলতে থাকে।
দর্শকনন্দিন এ অভিনেতা বলেন, তবে পাকিস্তানি বাহিনীদের কাছে আমাদের বীর বাঙালিরা মাথা নীচু করেনি। বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি দেখার পরও নিজের জন্মদিন উদযাপন করা ভাবা যায় না। এখনো সেই পুরোনো স্মৃতি মনে হতেই হৃদয়টা কেঁপে উঠে। এ কারণে জন্মদিন কখনো উদযাপন করা হয় না আমার।
সবশেষ এ তারকা বলেন, আমাদের মাতৃভাষার জন্য এবং এই লাল-সবুজের দেশ স্বাধীন করার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন এবং যুদ্ধ করেছেন, তাদের সবার প্রতি সবসময় বিনম্র শ্রদ্ধা। এই শ্রদ্ধাবোধের কারণেই বিশেষ দিনটি উদযাপন করি না।
কে