দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ঢালিউডের একচ্ছত্র সুপারস্টার হিসেবে। তবে সাম্প্রতিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় এবার যুক্ত হয়নি নতুন কোনো স্বীকৃতি।
১৯৯৯ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় শাকিব খানের। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্য না পেলেও নায়ক হিসেবে তিনি দর্শকের নজর কাড়তে সক্ষম হন। পরের বছরই সে সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূরের বিপরীতে ইস্পাহানি-আরিফ জাহান পরিচালিত ‘গোলাম’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান, যা তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে।
তবে ক্যারিয়ারের শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমাই সাফল্যের মুখ দেখে। মোড় ঘুরে যায় ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমার মাধ্যমে। এই ছবির পর থেকেই ঢালিউডে শাকিব খানের একচ্ছত্র আধিপত্য শুরু হয়।
একই সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় অপু বিশ্বাসের। পরবর্তী প্রায় নয় বছর শাকিব খান–অপু বিশ্বাস জুটি ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করে। এই সময় তাদের অধিকাংশ সিনেমাই ছিল বক্স অফিস হিট। অপু বিশ্বাস ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে একাধিক নায়িকার সঙ্গে কাজ করে দর্শকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন শাকিব খান।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘খোদার পরে মা’, ‘আরও ভালোবাসবো তোমায়’ ও ‘সত্তা’ এই চারটি সিনেমার জন্য চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এবছর শাকিব খান ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুরস্কার না পেলেও তার অভিনীত সিনেমা ‘প্রিয়তমা’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মোট পাঁচটি বিভাগে সম্মাননা পেয়েছে। বিভাগগুলো হলো শ্রেষ্ঠ গায়ক, শ্রেষ্ঠ গীতিকার, শ্রেষ্ঠ সুরকার, শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার ও শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান। এই সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার পেলে শাকিব খান পঞ্চমবারের মতো এই সম্মান অর্জন করতে পারতেন।
পারিশ্রমিকের দিক থেকেও শাকিব খানের উত্থান চোখে পড়ার মতো। ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সিনেমায় তার পারিশ্রমিক ছিল এক লাখ টাকারও কম। ২০০৬ সালে প্রথম ব্লকবাস্টার ‘কোটি টাকার কাবিন’ মুক্তির একই বছরে ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’ ও ‘পিতার আসন’ সুপারহিট হয়। এর আগের বছর ‘আমার স্বপ্ন তুমি’ সিনেমা দিয়েই দর্শকের নজর কেড়েছিলেন তিনি।
২০০৮ সালের শেষ দিকে হঠাৎ করেই পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ছবিপ্রতি ৪০ লাখ টাকা নেন শাকিব খান। সাম্প্রতিক সময়ে ‘প্রিয়তমা’ ব্লকবাস্টার হওয়ার পর তার পারিশ্রমিক আরও বেড়েছে। ‘রাজকুমার’, ‘তুফান’ ও ‘দরদ’ এই সিনেমাগুলোতে কাজ করতে গিয়ে দফায় দফায় পারিশ্রমিক বাড়িয়েছেন ঢালিউডের এই সুপারস্টার।
জে আই