দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পুরস্কার জেতা সাধারণত আনন্দের বিষয়। নিজের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা হওয়া এবং মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণ করা প্রত্যেকের জন্যই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আর সেটা যদি হয় অস্কার; তাহলে অভিনেতা, লেখক ও প্রযোজকদের মুখে ফুটে উঠে আনন্দের হাসি। তাই কেউ নিজের জেতা পুরস্কার নিতে না গেলে অস্বাভাবিকই মনে হয়।
অনেক সময় এর পেছনে থাকে কাজের ব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত কারণ। আবার হায়াও মিয়াজাকির মতো মানুষও আছেন, যিনি কখনো সরাসরি কোনো বিবৃতি দেননি কেন তিনি উপস্থিত হননি। তবে বিভিন্ন সময়ে বলা কথাগুলো মিলিয়ে দেখলে তার কারণ বোঝা যায়।
হায়াও মিয়াজাকি হলেন সর্বকালের অন্যতম কিংবদন্তি ও প্রভাবশালী চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিশেষ করে অ্যানিমেশন ক্ষেত্রে। ২০২৪ সালে তিনি তার শেষ চলচ্চিত্র দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন–এর জন্য সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্মে তার দ্বিতীয় একাডেমি অস্কার জিতেছেন। তবে মিয়াজাকি এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।
প্রায় দুই দশক আগে যখন মিয়াজাকি তার প্রথম অস্কার জিতেছিলেন, তখনও তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন না। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রথমবারের অস্কার অনুষ্ঠান বর্জনের কারণ প্রকাশ করেন।
২০০৩ সালে মিয়াজাকি তার চলচ্চিত্র স্পিরিটেড অ্যাওয়ে–এর জন্য সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম বিভাগে অস্কারের জন্য মনোনীত হন। এটি তার প্রথম মনোনয়ন এবং প্রথম অস্কার জয়। তবে তিনি তখন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
২০০৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে তিনি জানান, ‘আমি এমন একটি দেশে যেতে চাইনি, যারা ইরাকে বোমা হামলা চালাচ্ছিল। তখন আমার প্রযোজক আমাকে বাধা দিয়েছিলেন এবং বলার অনুমতি দেননি। তবে আমার প্রযোজকও একই অনুভূতি শেয়ার করতেন।’
ফলে, ২০০৩ সালের ৭৫তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে মিয়াজাকি উপস্থিত হননি, কারণ তিনি তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশের ইরাক আক্রমণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছিলেন।
তার শেষ চলচ্চিত্র দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন–এর জন্য মিয়াজাকি ৯৬তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে চতুর্থবারের মতো সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্মে মনোনীত হন। ফলে তিনি এই বিভাগের সর্বাধিক মনোনীত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগ দেন।
২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ছবিটি অস্কার জিতলেও মিয়াজাকি আবারও উপস্থিত ছিলেন না। পরিবর্তে অভিনেতা ক্রিস হেমসওর্থ পুরস্কার গ্রহণ করেন।
প্রায় ২০ বছর আগে তার প্রথম অস্কার না নেওয়ার মতো, মিয়াজাকি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি কেন তিনি এইবারও উপস্থিত হননি। অনেকের ধারণা ছিল, গাজায় বোমা হামলার কারণে তিনি এ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে মিয়াজাকির স্টুডিও জিবলির প্রতিনিধি কিয়োফুমি নাকাজিমা অনুষ্ঠানে প্রযোজক তোশিও সুজুকির লেখা একটি নোট পড়েন।
নাকাজিমা মিডিয়ার কাছে মিয়াজাকি এবং সুজুকির অনুপস্থিতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জানান, দুজনের বয়সজনিত কারণে তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তাই মনে হচ্ছে, মিয়াজাকি দ্বিতীয়বার অস্কার জেতার সময় কোনো রাজনৈতিক কারণে অনুষ্ঠান বর্জন করছিলেন না।
এই অস্কার জেতায় ৮৪ বছর বয়সী মিয়াজাকি সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক বিজয়ী হিসেবে রেকর্ড স্থাপন করেছেন।
এবি/