দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৬ ডিসেম্বর শুধু একটি দিন নয়; এটি বিজয়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেই মিছিলে বাদ নেই বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তায় বিজয় দিবস নিয়ে তাদের কয়েকজন জানিয়েছেন নিজেদের ভাবনা।
আবুল হায়াতের কাছে বিজয় দিবস হলো এক আবেগঘন ও অশ্রুসিক্ত স্মৃতির দিন, যেদিন বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন বিজয় অর্জিত হয়, তখনকার স্বতঃস্ফূর্ত উল্লাস তার কাছে আজও অত্যন্ত উজ্জ্বল স্মৃতি। বিজয়ের দিনটি এবং দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা পাওয়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও এ অভিনেতার চোখ ভিজে যায়। বিজয় দিবস কেবল একটি দিন নয়, এটি ত্যাগ, সংগ্রাম ও গৌরবের এক চিরন্তন স্মারক।
আসিফ আকবরের মতে, স্বাধীনতা অর্জন করা যতটা কঠিন, তা রক্ষা করা তার চেয়েও বেশি কঠিন। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। লাল-সবুজের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। সবাই হানাহানি রেষারেষি ভুলে একসঙ্গে দেশকে আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
জয়া আহসান বিজয় দিবসকে কেবল একটি দিন হিসেবে নয়, বরং একটি ‘অবিরাম লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। নিজের ফেসবুক পেজে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘বিজয় দিবস, তোমাকে অভিবাদন। সমস্ত দেশবাসীর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তুমি জন্ম দিয়েছ বাংলাদেশ নামে একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র।’
মুক্তিযোদ্ধাদের অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া এবং ত্যাগের কথা স্মরণ করে জয়া আরও লেখেন, ‘তোমার প্রতি আমাদের ঋণ আমরা বিন্দুমাত্র শোধ করতে পারিনি। এই ঋণের সামান্য প্রতিদান হবে সেইদিন, যেদিন বাংলাদেশকে আমরা প্রতিটি মানুষের জন্য একটি ন্যায্য ও সাম্যের রাষ্ট্র করে তুলতে পারব।’
অভিনেত্রী দিলারা জামানের মতে, বিজয় দিবস কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি একটি প্রেরণা এবং বাঙালির হৃদয়ে লালিত একটি চেতনা, যা সব বাধা অতিক্রম করার সাহস যোগায়। এই দিনটিকে গর্ব এবং আত্মত্যাগের মহিমান্বিত প্রতীক হিসেবে দেখেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, বিজয় দিবস বাঙালির জাতীয় জীবনের এক শ্রেষ্ঠ অর্জন এবং অনুপ্রেরণার উৎস। বিজয় দিবসের চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী বিজয় দিবস উদযাপন করেছেন একটু ভিন্নভাবে। নিজের সন্তান শেহজাদ খান বীরের হাতে জাতীয় পতাকা দিয়ে তুলে ধরেছেন আগামীর বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। লাল-সবুজ পতাকাসহ মা-ছেলের স্নিগ্ধ সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে বুবলী লিখেছেন, ‘মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।’
জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নির্মাতা কুসুম শিকদারও বিজয় দিবসের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন ভক্তদের সঙ্গে। খুব সংক্ষিপ্ত তবে আন্তরিক এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।’
শবনম ফারিয়া জানান, এই দেশের মানুষ চিরকাল গর্ববোধ করবে যে দিনটির জন্য, আজকে সেই দিন, ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। আজ এই বিজয়ের আনন্দের দিনে গভীর কৃতজ্ঞতা ও পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর সন্তানদের।
এবি/