দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের প্রাচীনতম ও পরিচিত পারসি সাময়িকী পারসিয়ানা প্রকাশের ৬০ বছর পর আগামী অক্টোবরেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, কমতে থাকা সাবস্ক্রিপশন এবং উত্তরসূরির অভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৯৬৪ সালে পারসি চিকিৎসক পেস্টোনজি ওয়ার্ডেন ম্যাগাজিনটি চালু করেন। প্রথমে এটি ছিল মাসিক, যেখানে পারসি সমাজের লেখা ও চিকিৎসাবিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো। ১৯৭৩ সালে মাত্র এক রুপিতে সাময়িকীটি কিনে নেন সাংবাদিক জেহাঙ্গীর প্যাটেল। তার হাত ধরে পারসিয়ানা বদলে যায়। এটি তখন দ্বিসাপ্তাহিক সংখ্যায় রূপ নেয়, যোগ হয় প্রতিবেদক, কলাম ও ব্যঙ্গচিত্র। সংবেদনশীল পারসি ইস্যু নিয়েও সৎ ও রসাত্মক ভঙ্গিতে প্রতিবেদন করত ম্যাগাজিনটি।
১৯৮৭ সালে পারসিয়ানা প্রথমবার আন্তঃধর্মীয় বিয়ের বিজ্ঞাপন ছাপে, যা রক্ষণশীল পারসি সমাজে আলোড়ন তোলে। তবুও সম্পাদকীয় দল সিদ্ধান্তে অটল ছিল। বছরের পর বছর সাময়িকীটি পারসি সমাজের সংকট, জনসংখ্যা হ্রাস, ‘টাওয়ার অব সাইলেন্স’-এর অবক্ষয়সহ নানা ইস্যু তুলে ধরেছে। পাশাপাশি সম্প্রদায়ের অর্জন, সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়েও নিয়মিত প্রতিবেদন করেছে।
বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশ থেকে পাঠকরা আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কেউ বলছেন, ‘এটা এক যুগের অবসান,’ কেউবা এটিকে অভিহিত করেছেন বিশ্বব্যাপী জরথুস্ত্রীয় সম্প্রদায়ের সেতুবন্ধন হিসেবে।
এখন ১৫ সদস্যের প্রবীণ সম্পাদকরা বহু বছর ধরে প্যাটেলের সঙ্গে কাজ করছেন, তারা এখন বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অফিসঘরটি পুরনো পারসি হাসপাতালের একটি অংশ, যেখানে এখন রঙ উঠে গেছে, ছাদ ভেঙে পড়ছে, আর তাকভর্তি পুরোনো সংখ্যা পড়ে আছে।
শেষ সংখ্যাগুলোয় ম্যাগাজিনটির দীর্ঘ যাত্রা ও ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন থাকবে। তবে বিদায়ের দিনে কোনো আয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন প্যাটেল। তিনি বলেন, ‘হয়তো একসঙ্গে লাঞ্চ করব। কিন্তু কেক বা উদযাপন হবে না। এটা আনন্দের নয়, দুঃখের মুহূর্ত।’
এমএস/