দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চায়ে চিনি কম হওয়ায় প্রোডাকশন বয় রাব্বির মুখে গরম চা ছুড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তরুণ অভিনেতা শামীম হাসান সরকারের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ টেলিভিশন মিডিয়া প্রোডাকশন ম্যানেজার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার গণমাধ্যমকে এমন অভিযোগ করেন। তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলছে। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা শামীম হাসান সরকার।
প্রোডাকশন বয় রাব্বির শরীর পুড়ের যাওয়ার খবরটি মিথ্যা। তা জানিয়ে শামীম হাসান সরকার বলেন—‘এটা বার্ন ইস্যু না। বার্ন ইস্যুটা সাজানো, মিথ্যা-বানোয়াট। যে ছবিটা ছড়িয়েছে, সেটা পরিকল্পিতভাবে তোলা।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমি সেটে ঢোকার পর আমাকে চা দেওয়া হয়। চা মুখে দিয়ে বুঝতে পারি তিতা ও ঠান্ডা। আমি বলি, এটা কোনো চা হলো? পরে বলি এই চা তুমি খাও। কিন্তু রাব্বি খায় না। আবারো বলি, এটা তুমি খাও। এ কথাগুলো হাসতে হাসতে বলেছিলাম। তিনবার চা খেতে বলার পরও রাব্বি চা খায় না এবং কিছু বলেও না। পরে আমি এগিয়ে গিয়ে বলি, তুমি চাটা খাও। এগিয়ে গিয়ে চা দেওয়ার সময় কাপ থেকে চা গিয়ে পড়ে রাব্বির শরীরে। চা ঠান্ডা ছিল। স্কিন পুড়ে যাওয়ার মতো গরম ছিল না।’
চা পড়ার পর রাব্বির শরীর চেক করে দেখেন শামীম হাসান সরকার। তা উল্লেখ করে এই অভিনেতা বলেন, ‘চাকরি জীবনে দুই ভাইয়ের মধ্যে মনমালিন্য হতেই পারে। ও তো আমার সহকর্মী। রাব্বি সেটেই ছিল, ওকে সরি বলা হয়েছে। ও আঘাত পাইছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। ওই দিন বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাব্বি আমাদের সেটেই ছিল। দুপুরে খাবার রাব্বি খাইয়েছে। অন্য শিল্পীরাও ছিলেন। হঠাৎ করে রাব্বিদের সংগঠন থেকে আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলো। আমি রাজি হইছি। কারণ ভুল তো আমি করেছি। আমি ক্ষমা চাইতে রাজি। যাই হোক, সংগঠন থেকে সেটে আসে। একজন রাব্বির কিছু ছবি তুলে নিয়ে আসে। তাতে দেখি, রাব্বি দুঃখি দুঃখি চেহারা করে বেডে শুয়ে আছে। কিন্তু চা পড়ে রাব্বির শরীর যদি পুড়ে গিয়ে থাকে, তবে তো সেটা দুপুর ১২টার দিকে হওয়ার কথা। বিকাল ৪টার দিকে অনেকটা সুস্থ হওয়ার কথা। আর ওই ঘটনার পর আমি নিজে চেক করে দেখেছি কোথাও পুড়েছে কিনা। না, ওই সময়ে রাব্বির শরীরে আমি কোনো ক্ষত পাইনি।’
এ ঘটনার পর শামীম হাসান সরকার রাব্বির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তা জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘সংগঠনের একজন বলেন, আপনি কোনো চিকিৎসার খরচ দিলেন না। আমি বললাম, আমি সব করতে রাজি। এ ঘটনার জন্য আমি সরি। আর এসব কথা আমি সবার সামনে বলেছি। বিকাল ৫টার দিকে আমি হাসপাতালে লোক পাঠাব, তখন বলে ছেলেটা ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে গেছে। কিন্তু প্রথমে আমাকে বলা হয়েছে, রাব্বির শ্বাসনালী পুড়ে গেছে, তাকে হাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। এসব কথা শুনে আমার খুব খারাপ লেগেছে। কিন্তু মিলাতে পারছিলাম না। কারণ এমনটা তো হওয়ার কথা না।’
টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে চাননি শামীম হাসান সরকার। তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বিকাল ৬টার দিকে রাব্বি সেটে আসে। এসময় সবাই ছিলাম। রাব্বির হাত ধরে বলি, আমি খুবই সরি। তুমি যদি মাফ না করো তাহলে তো আল্লাহ মাফ করবে না। কিন্তু বাকি যারা সেটে ছিলেন না, তারা এ বিষয়ে আরো বেশি কনসার্ন হয়ে গেলেন। অন্যান্য মানুষও বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন। কারণ আপনাকে যেমন সবাই ভালোবাসেন না, আমার ক্ষেত্রেও তাই। এটা যেকোনো সেক্টরে ঘটে থাকে। যাই হোক, বিষয়টি মিটে গেল। রাব্বির চিকিৎসা বাবদ ৪২০ টাকা বিল হয়েছিল। আমি ওকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে দিই। এও বলি, তু্ই আমার ছোট ভাই, ফলমূল খেয়ে নিস, দ্রুত সুস্থ হয়ে যা। এরপরও যদি টাকা লাগে আমি আছি। আবার বিষয়টা এমনও না যে, টাকা দিয়ে আমি ধামাচাপা দিতে চেয়েছি। ও টাকা চায় নাই, আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে এটা করেছি।’
রাব্বির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা থামেনি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে শামীম হাসান সরকার বলেন, ‘আমি রাব্বির কাছে ক্ষমা চেয়েছি। তারপরও নিউজ হয়। পরে আমি রাব্বিকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করি, তোমার কি কোনো অভিযোগ আছে। তুমি কি আমাকে মাফ করো নাই? রাব্বি বলে, না ভাই আমার কোনো অভিযোগ নাই। যার সঙ্গে আমার সমস্যা তার সঙ্গে বিষয়টা মিটিয়ে নেওয়ার পরও কিছু মানুষ নিউজ শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আমি মানুষ ভালো না, আমার পরিবার ভালো না।’ আমি তাদের ফোনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি এমনটা কেন লিখছেন। তখন তারা বলেন, ‘আপনি তো আমাদের ডেট দেন না।’ আরে ভাই, আমি তো একটা মানুষ; কয়জনকে আমি ডেট দেব?’