দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলায় একটা বচন আছে—মুখ থেকে কথা ছুটে গেলে আর বন্দুক থেকে গুলি বের হয়ে গেলে, তা আর ফেরানো যায় না, যা ঘটার তাই ঘটে যায়। ঠিক সেটাই ঘটেছে হালের জনপ্রিয় র্যাপার আলী হাসানের ক্ষেত্রে।
‘ব্যবসার পরিস্থিতি’ গান দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে আলোচনায় চলে আসেন আলী হাসান। এরপর আরও কয়েকটি গান গেয়ে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। সবশেষে কোক স্টুডিও বাংলায় ‘মা লো মা’ গানে তার পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে। তবে যে গান তাকে খ্যাতি এনে দিল, সেই গান নিয়েই করা মন্তব্যে সমালোচিত তিনি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে আলী হাসান জানান, গান–বাজনার টাকা হারাম। তাই এ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাজার করেন না। তবে বসবাসের জন্য তৈরি করছেন বহুতল বিশিষ্ট বাড়ি। তার কথায়, ‘গান বাজনার টাকা হারাম। এতে কোনো হাদিস চলব না, যেটা হারাম সেটা হারামই। আমার অটো বিজনেসের টাকা হালাল। সংগীত থেকে আয় হারাম। তাই বিজনেসের টাকায় (হালাল আয়ে) বাজার সদাই করি, আর মিডিয়ার টাকায় (হারাম আয়ে) বাড়ি তৈরি করি। এভাবেই চলতেছি।’
তার এই মন্তব্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়। মন্তব্যের অংশটুকু কেটে ফেসবুকে শেয়ার করে নেটিজেনরা তাকে তুলোধুনো করছেন।
নেটিজেনদের রোষানলে পড়ে আলী হাসান দাবি করেন, বক্তব্য না বুঝেই সমালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি, গানে যে বাদ্য-বাজনা ব্যবহার হয়, তা আমাদের ধর্মে হারাম। সেই কাজগুলো ছেড়ে দিতে চাই। এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকার থেকে দুই–তিন মিনিট কেটে ছেড়ে দেওয়ায় আমার কথাটি অনেকে বুঝতে পারছেন না। পুরো ইন্টারভিউ দেখলে হয়তো আমার মনের কথাটা বুঝতে পারবেন সবাই। ছোট ছোট ক্লিপস দেখে কাউকে বিচার করবেন না। যদি আমার অসৎ উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে এ বিষয়ে কথা বলতাম না।’
সমালোচনার বিষয়ে আলী হাসান বলেন, ‘অনেকেই ট্রোল করছে। কিন্তু আমার কাছে এসব কোনো বিষয় না। মানুষ মাত্রই ভুল। আমার কথায়, আচরণে, চলাফেরায় ভুল হতেই পারে। হয়তো আমার মনের কথাটি গুছিয়ে বলতে পারিনি। হালাল খাই, হারামে থাকি—বিষয়টি এ রকম নয়। দুটি মিলিয়েই চলছি। কোক স্টুডিও বাংলার সঙ্গে কাজ করার পরেও অনেকে সমালোচনা করেছেন। আমি কিন্তু বিষয়টাকে কাজ হিসেবে দেখেছি। অনেকে বুঝেছেন, অনেকে বোঝেননি। তবে আমার আয়ের পথটা ভালোর দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
আলী হাসান জানান, গান ছেড়ে দিলেও মিডিয়াতে থাকবেন তিনি। ভবিষ্যতে ইসলামি সংগীত লেখায় মনোযোগ দেয়ার ইচ্ছা তার। এর আগে হাতে থাকা গানের কাজগুলো শেষ করবেন। তিনি বলেন, “ধীরে ধীরে গান থেকে সরে আসব। বেশ কয়েকটি গানের কাজ হাতে নেওয়া আছে। সেগুলো শেষ করে গান ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আমার শেষ গানের শিরোনাম হবে ‘ইসলাম’। এই গানটি তৈরি হওয়ার পর আর গান লিখব না। প্রকাশের পর মানুষ হয়তো বুঝতে পারবে, কেন আমি গান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
নারায়ণগঞ্জের ছেলে আলী হাসান। বাবার অসুস্থতার জন্য পারিবারিক হার্ডওয়্যারের ব্যবসায় হাল ধরেছিলেন। কিন্তু ক্ষতির মুখে দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত সেই ব্যবসা প্রায় বছরখানেক আগে গুটিয়ে নিতে হয়েছে তাকে। আর এই পারিবারিক ব্যবসায় গিয়ে নিজের জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরেন গানে গানে। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে অটো রিকশা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি।
আর