দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

করোনার মধ্যে শুটিং ছিল না। সারা দিন রুমেই কাটত তার সময়। সিনেমা দেখা, বই পড়ার ফাঁকে মাঝেমধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে ঢুঁ মারা। নতুন ছবি পোস্ট করা। এতক্ষণ বলছিলাম ফারহান আহমেদ জোভানের কথা। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তেমনই একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন ছোট পর্দার এই অভিনেতা। সেই ছবিতে একটি মেয়ে ‘ক্রাশ’ মন্তব্য করেন। মেয়েটির নাম সাজিন আহমেদ নির্জনা।
অভিনয়ে খ্যাতি পাওয়ার পর এমন মন্তব্য অনেকই পেয়েছেন। তবু আউটবক্সের সেই ‘ক্রাশ’ মন্তব্যে আটকে যায় জোভানের চোখ। কারণ, মেয়েটির প্রোফাইল পিকচার। কৌতূহলবশে সেই প্রোফাইলে ঢুকে পড়েন তিনি।
সেই প্রথম কোনো ভক্তের ‘ক্রাশ’ মন্তব্যের রিপ্লাই দেন জোভান। পরের ছবিগুলোতেও মন্তব্য আসতে থাকে। তখনো কোনো কথা হয়নি। কিন্তু ইনস্টাগ্রামে মন্তব্য আর কত? হঠাৎ একদিন নির্জনার কাছে ফোন নম্বর চেয়ে বসেন। মানুষটি আসল কি না, সেটাও যাচাই হয়ে যাবে। নির্জনাও জোভানের ফোন নম্বর চান। মেয়েটি দিলেও সেদিন আর নিজের নম্বর দেননি জোভান।
হেসে সেদিনের কথা বললেন জোভান, ‘আমি তাকে নম্বর না দিয়ে বললাম, এখন থেকে তোমার ফোনে যত অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসবে, মনে করবে সব কটি আমার নম্বর। সেভাবেই ধরবা। তাহলে তোমার মধ্যে একটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করবে।’ এসবই ২০২১ সালের ঘটনা। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে ভক্তের সঙ্গে নিজের প্রেম, ভালোলাগা, ভালোবাসা ও বিয়ে নিয়ে কথা বলেন জোভান।
এভাবেই চলে যায় অনেকটা সময়। করোনার পরে আবার শুটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন জোভান। নির্জনা অপেক্ষায় থাকেন, কবে ফোন আসবে। কিন্তু ফোন আর আসে না। সময়গুলো যেন অনেক লম্বা হতে থাকে। তখনো মেয়েটির সঙ্গে প্রেম বা বিয়ে নিয়ে ভাবছিলেন না তিনি। একদিন এলো সেই ফোন। তারপর থেকে শুরু হলো মুঠোফোনে কথা বলা।
একসময় জোভানের মনে হয় নির্জনার সঙ্গে দেখা করা দরকার। প্রথম কথা বলা শুরুর দুই বছর পর, ২০২৩ সালে, একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করেন তারা। কেবল বন্ধুত্ব থেকেই দেখা করেন দুজন। তখনো জোভান প্রেম নিয়ে ভাবেননি। কথা হয়, চ্যাটিং হয়—সে জন্যই দেখা করা যায় ভেবে দেখা করতে আসা। রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। পরে মেয়েটিকে তার বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথে নামিয়ে দেন। এরপর পুরান ঢাকায় শুটিংয়ে গেলে দ্বিতীয়বার দেখা। সেদিন তার কাজিনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন নির্জনা। তাদের বাড়িও পুরান ঢাকা।
কিন্তু তখনো কি তাদের মধ্যে প্রেম–ভালোবাসা ছিল? এমন প্রশ্নের উত্তরে জোভান বললেন ‘টুকটাক কথাবার্তা বলতাম ফোনে, টেক্সটে। কিন্তু এমন কোনো সিচুয়েশন কখনোই তৈরি হয়নি যে আমি ওকে ভালোবাসব বা ওর সঙ্গে প্রেম করব। ভালো একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এই ভালো লাগাটা হয়তো শুরু থেকেই ছিল। এভাবেই ক্রমেই ভালো লাগাটা বাড়তে থাকে। কথা বলার পরিমাণও বাড়তে থাকে’।
এদিকে বিয়ের জন্য পরিবার থেকেও চাপ দিচ্ছিল। জোভান বলেন, ‘পরিবার থেকে যেহেতু বিয়ের কথা বলছিল, সেখান থেকেই আমার কাছে মনে হয়েছে, সরাসরি মেয়েটিকে বিয়ে করে ফেলা যায়। যার সঙ্গে সংসার করা যায়, বাকি জীবন কাটানো যায়। কিন্তু এসব ওকে কিন্তু অনেক দিন পর্যন্ত বলা হয়নি।’
শুটিংয়ের ফাঁকে কথা হতে থাকে। দিন দিন মেয়েটির প্রতি দুর্বল হতে থাকেন জোভান। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের মেয়েটির ছবি দেখান। নির্জনাকে ছবিতে দেখেই তারা পছন্দ করেন। কিন্তু তখনো মেয়েটির সঙ্গে প্রেম বা বিয়ে করার মতো কোনো সম্পর্ক তৈরি হয়নি। কীভাবে মেয়েটিকে সরাসরি বিয়ের কথা বলা যায়—এ নিয়ে ভাবতে থাকেন। এর মধ্যেই একদিন বার্তা পাঠিয়েই মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন জোভান। রাজি আছে—এমন কোনো কথা সরাসরি সেদিন বলেননি নির্জনা। তবে রাজি যে নন—এমন কিছুও বলেননি। ফলে নীরবতাকেই সম্মতির লক্ষণ ধরে নেন জোভান। একটু দোটানা যে ছিল না, তা নয়।
পরে জোভানের পরিবার থেকে মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়। এরপর শুরু হয় প্রেম। জোভান বলেন, ‘২৯ জুলাই থেকে আমাদের ভালোবাসার শুরুটাই হয়েছিল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। ঈদুল আজহার সময়ে। প্রথমে ওকে বন্ধু আর পরে বউ হিসেবে দেখেছি। প্রেমিকা–ট্রেমিকা না।’
তবে তখনই বিয়ে করতে চাননি নির্জনা। তিন বছর সময় চেয়েছিলেন। সেটা পরে দুই থেকে দেড়, দেড় থেকে এক, এভাবে কমাতে কমাতে ছয় মাসে নামিয়ে আনেন জোভান। আসলে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর আর সময় নিতে চাইছিলেন না এই অভিনেতা। তার তাড়াহুড়োর কারণেই ছয় মাসের মাথায় বিয়ে হয়ে যায়। নভেম্বরের ১০ তারিখে ‘আক্দ’ হয়। ১২ জানুয়ারি জোভান ফেসবুকে প্রথমবার স্ত্রীর সঙ্গে ছবি দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়ে দেন।
জোভান বলেন, ‘আমার একটাই চাওয়া, নির্জনা এখন যেমন আছে, সারা জীবন এমনই থাকুক। ও যেন কখনোই বদলে না যায়। এসব নিয়ে আমাদের মাঝে বোঝাপড়াটাও ভালো। বিয়ের পরেই আমরা প্রেমটা করছি। ওর সঙ্গে এভাবেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চাই।’
এস