দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
মিছিলে প্রেম হোক, ভেঙে যাক মোহ। তুমি সাজো ব্যারিকেড, আমি বিদ্রোহ। কবিতার এই দুই পংক্তি যেন জীবন্ত হয়েছে বরগুনার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। সেই আন্দোলন থেকেই শুরু হয় নিলয় ও আনিকার ভিন্ন রকম প্রেমের গল্প।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে আন্দোলনের প্রায় ৫ মাস পর বিয়ের পিঁড়িতে বসে প্রেমের পূর্ণতা দেন নিলয় ও আনিকা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুধু একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়নি, বরং বরগুনায় নিলয় ও আনিকার মধ্যে একটি নতুন সম্পর্কের সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের মধ্যেই যেখানে দেশের জন্য সহস্র মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন, নিলয় ও আনিকা খুঁজে পেয়েছেন একে অপরের মধ্যে তাদের জীবনের সঙ্গী। তবে তারা জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনে সব সময় প্রস্তুত থাকবেন।
আন্দোলনের সময় একত্রে কাজ করার সুযোগ পেলেও গত ৫ আগস্ট থেকে তাদের ভালো লাগা গভীর হতে থাকে। এরপর ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। কিছুদিন পর ২৫ আগস্ট তাদের সম্পর্কের কথা পরিবারকে জানান। দুই পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে অবশেষে ২৭ ডিসেম্বর তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
আন্দোলনের তপ্ত দিনগুলো শুধু সংগ্রাম আর ত্যাগের গল্পই সৃষ্টি করেনি, গড়ে তুলেছে নতুন সম্পর্কের এক অদ্ভুত সুন্দর অধ্যায়। নিলয় ও আনিকার প্রেম কাহিনি তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
আনিকা বলেন, আন্দোলনের দিনগুলোতেই নিলয়ের সঙ্গে আমার পরিচয়। প্রথম থেকেই তার সাহসিকতা ও সততা আমাকে মুগ্ধ করে। এমন সময়ে যখন তার আত্মীয়দের অনেকেই নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল, পরিবারের সবার বিরোধিতা সত্ত্বেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যায়। অন্য একটি সংগঠন তাকে তাদের ব্যানারে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিলেও সে তা প্রত্যাখ্যান করে নিজের নীতিতে অটল থাকে। এই সততা আর সাহসই তাকে আমার কাছে বিশেষ করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট বিজয় মিছিলে তার আন্তরিক যত্ন আমাকে আরও মুগ্ধ করে। মাত্র দুই দিন পর ৭ আগস্ট নিলয় প্রেমের প্রস্তাব না দিয়ে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এই স্পষ্টতা আর দৃঢ়তা আমাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। আন্দোলনের তীব্রতা ও আবেগের মধ্যেও জন্ম নেওয়া এই সম্পর্ক যেন অন্য সবার জন্য এক নতুন আশার বার্তা।
মীর রিজন মাহমুদ নিলয় জানান, আনিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয় আন্দোলনের সময়। যদিও আগে দূর থেকে আনিকাকে চিনতেন, তবে কখনো কথা হয়নি। আন্দোলনের সময় সক্রিয়ভাবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং সবার মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করতেন। এই সময়েই আনিকার সঙ্গে তার কথা বলা শুরু হয়। তবে তখন তাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। গত ৫ আগস্ট বিজয় মিছিল চলাকালে তাদের মধ্যে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়।
কী কারণে আনিকাকে তার ভালো লেগেছে এ প্রশ্নের জবাবে নিলয় বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সাহসিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে। এমন একজন ব্যক্তি, যিনি দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে পারেন, তিনিও নিঃসন্দেহে অন্যকে ভালোবাসতে পারেন।
মীর রিজন মাহমুদ নিলয় বরগুনা পৌরসভার আমতলারপাড় এলাকার প্রয়াত মীর মোয়াজ্জেম হোসেনের সন্তান। তিনি বর্তমানে আনোয়ার খান মর্ডান ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে অধ্যয়ণরত। ফৌজিয়া তাসনীন আনিকা বরগুনা পৌরসভার কলেজ রোড এলাকার মনোয়ারুল ইসলাম শামীমের কন্যা এবং সরকারি ব্রজমোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
আরএ