দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টেলিভিশন হোক কিংবা অনলাইন— সবখানে রোমান্টিক ঘরানার কাহিনিচিত্র নির্মাণের পরিমাণ খানিকটা বেশি। মানুষ ভালোবাসায় বাঁচে বলেই হয়ত ভালোবাসার গল্প দেখতে পছন্দ করেন। তাই তাদের চাহিদা মাথায় রেখে পরিচালকরাও খুব একটা নিরীক্ষা করেন না। দিন শেষে ভিউয়ের ইঁদুর দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারলেই হলো!
তবে সবাই যে এমনটা করেন, সেকথা স্পষ্ট করে বলা যাবে না। কেউ কেউ হাঁটেন স্রোতের বিপরীতে। দর্শকের চাহিদাকে একপাশে রেখে মনের মতো একটি গল্প ফুটিয়ে তোলেন পর্দায়। তপু খানকে সেই তালিকায় রাখা যায়। গেল ২০ ফেব্রুয়ারি ইউটিউবে উন্মুক্ত হয়েছে তার নির্মিত ‘ডার্ক জাস্টিস’ শিরোনামের ওয়েব ফিল্ম। এ ক্ষেত্রে তিনি বেছে নিয়েছেন অ্যাকশনধর্মী গল্প। তুলে এনেছেন মন্দ মানুষ আর দেশের বিচার ব্যবস্থার লড়াই। চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন দিল।
সদ্য প্রকাশ পাওয়া ওয়েব ফিল্মটি নিয়ে কথা হয় তপু খানের সঙ্গে। তার কাছে জানতে চাই, রোমান্টিক জামানায় অ্যাকশনধর্মী গল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিউয়ের বিষয়টি মাথায় ছিল কি না!

তপু খানের উত্তর, ‘দেখুন আসলে সব রকম দর্শকই রয়েছেন। শুধু দর্শকের পছন্দ অনুযায়ী নির্মাণ করা নয়, নতুন নতুন দর্শক তৈরি করাও নির্মাতার কাজ এবং দর্শকের রুচির উন্নতি সাধন করাও নির্মাতার কাজ বলে আমি মনে করি। শুধুমাত্র দর্শকের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করে প্রশংসা পেতে আমি পছন্দ করি না। বিগত দিনে আমার করা কাজগুলোর সমীক্ষা করলে আপনি দেখতে পারবেন, আমি সব সময় প্রথা ভেঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করি। সবাই যখন টেলিভিশনের জন্য সাত পর্বের ধারাবাহিক নির্মাণ করছেন, আমি তখন প্রথম সাত পর্বের ধারাবাহিক নির্মাণ করেছিলাম শুধুমাত্র অনলাইনের জন্য। যা সবার প্রশংসা পেয়েছিল।’
তার কথায়, “এখন তো অনলাইনে একটা বিশাল মার্কেট তৈরি করেছে। যেহেতু ইন্ডাস্ট্রি বড় হয়েছে। কলাকুশলীরা নিজেদেরকে সামগ্রিক উন্নয়ন করেছে, কারিগরি উন্নয়ন ঘটেছে সবদিকে। আমাদের উচিত দর্শকের উন্নতি সাধন করা। ভালো কাজের নতুন দর্শক তৈরি করা। এই তাড়না থেকেই প্রথা ভেঙে ‘ডার্ক জাস্টিস’ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই আমার প্রযোজক আকবর হায়দার মুন্না তার প্রতি এবং অপূর্ব ভাইসহ সকল কলাকুশলীদের প্রতি। আমাদের উদ্যোগকে তারা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং দর্শকও সাড়া দিয়েছে। তা আপনারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পত্রিকা, সাধারণ দর্শকের মন্তব্য দেখলেই বুঝতে পারবেন। আর ভালো কিছু করতে গেলে ঝুঁকি থাকবেই, ব্যর্থতাও থাকবে। কিন্তু দিনশেষে সফলতা আসবেই কোনো না কোনো সময়। সততা নিয়ে কাজটি করে যেতে হবে।”
এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। রোমান্টিক ভাবধারার এই অভিনেতাকে অ্যাকশন করতে দেখা গেছে। এ ধরনের ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ চরিত্রে তার ওপর কেন ভরসা করলেন— প্রশ্ন ছিল তপু খানের কাছে। তিনি জানালেন, তাকে মাথায় রেখেই সিনেমাটির গল্প সাজানো হয়।
তপু খান বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আমাদের ছোটপর্দার বড় সুপারস্টার অপূর্ব। আমি ও আমার প্রযোজক-গল্পকার আকবর হায়দার মুন্না ভাই যখন পরিকল্পনা করছিলাম, তখন থেকেই আমাদের মাথায় কাজ করছিল একজন শিল্পী আমাদের প্রয়োজন যে আসলে এই চরিত্রের ভার বা ওজন নিজের কাঁধে বহন করতে পারবেন। আর অপূর্ব ভাইয়া তো প্রচণ্ড হ্যান্ডসাম, ম্যানলি, ভারি গলা আর অভিনয় নিয়ে কথা বলার প্রয়োজনই নেই। সবকিছু মিলে একটা সফল বাণিজ্যিক নায়কের প্যাকেজ তার মধ্যে রয়েছে। আমরা সেটাকে এক্সপ্লোর করতে চেয়েছিলাম। হয়তবা তাকে আমরা কখনও এভাবে অ্যাংরি লুকে দেখিনি, তবে আমাদের মধ্যে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ছিল যে, অপূর্ব এই চরিত্রটাতে একদম পারফেক্ট হবেন। শিল্পীরা পানির মতো হন। তাকে যে পাত্রে রাখবেন, তিনি সেটির আকার ধারণ করবেন। আমাদের মনে হয়েছিল অপূর্ব পারবেন এরকম কিছু করতে। আর ফলাফল হলো, দর্শক তাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। রোমান্টিক ইমেজ থেকে অ্যাকশন লুক হিরো হিসেবে তাকে পছন্দ করছেন এখন।’
কথা প্রসঙ্গে ওয়েব ফিল্মটি নির্মাণের উদ্দেশ্যর কথা জানান তপু। বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিল একটু অন্যরকম কাজ করার। হঠাৎ করে মানুষ দেখে বলবে যে, ‘ওয়াও! কী দেখলাম এটা?’ এরকম বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের দেশে অনেক কাজ হয়েছে কিন্তু সেখানে হয়তবা মূল চরিত্রের বিচারক তাকে নিয়ে কোনো গল্প হয়নি। আর আমাদের গল্পকার, প্রযোজক আকবর হায়দার মুন্না ‘ডার্ক জাস্টিস’র ফ্যান ছিলেন অনেক আগে থেকেই। সেটা আমাদেরকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রত্যেকটা নির্মাণেই চেষ্টা করি কোনো না কোনোভাবে সামাজিক মেসেজ দেওয়ার। এখানেও সেরকম দেওয়া হয়েছে। অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না এবং যার কেউ নেই সৃষ্টিকর্তা কারও না কারও মাধ্যমে, কাউকে না কাউকে পাঠাবেন সেই নিঃসঙ্গ বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য। তাই আশাহত হওয়া যাবে না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে সুদিনের।”
দক্ষিণী সিনেমায় প্রভাবিত হয়ে ‘ডার্ক জাস্টিস’ নির্মাণ করেছেন পরিচালক। তাহলে কী যারা ‘সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা লাভার’ তাদের টানতেই এই প্রচেষ্টা? তপু খান বললেন, ‘জ্বি। একটু দক্ষিণী ঘরানার কাজ রয়েছে অথবা প্রভাবিত বলতে পারেন এখানে। আপনি যদি দর্শকের মতামত যাচাই-বাছাই করেন তাহলে জানতে পারবেন, আমাদের এখানে সিংহভাগ দর্শক কিন্তু এরকম কাজ দেখতে পছন্দ করেন বা দেখেন। যেহেতু আমাদের মূল উদ্দেশ্য নতুন স্মার্ট দর্শক তৈরি করা এবং তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা, তাই আসলে তাদের পছন্দটাকে কিছুটা বেছে নিয়ে সেই মাধ্যম দিয়ে আমাদের ফিলসফি তাদের মধ্যে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছি। সেটা কাজেও লেগেছে। আমি সব জায়গা থেকে পজিটিভ ফিডব্যাক পেয়েছি। মানুষ দেখেছেন। তাদের বাংলাদেশের কনটেন্ট সম্পর্কে ধারণার পরিবর্তন আরেক ধাপ হয়েছে। আমরাও ঠিক সুযোগ সুবিধা দিলে ভালো কিছু আন্তর্জাতিক মানের করতে পারি, এটা সাধারণ দর্শক এখন বুঝতে পারছেন। এই রকমভাবে দর্শকের রুচির পরিবর্তন করতে হবে। এভাবেই ভবিষ্যতে শিল্প-সংস্কৃতি এগিয়ে যাবে।’
সিনেমার শেষে আভাস মিলেছে দ্বিতীয় কিস্তির। তপু খানও জানালেন, দ্বিতীয় ধাপের গল্প তৈরি। তার ভাষায়, ‘দ্বিতীয় কিস্তির গল্প রেডি আছে আমার। কিন্তু আসলে আর কিছুদিন পরে বলতে পারব এই ব্যাপারে। যদি প্রযোজক আগ্রহী হন এবং দর্শক সেটা প্রবলভাবে চায়, সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করব নতুন কিছু দিয়ে আবার এক্সপেরিমেন্টাল কিছু করতে। আসলে প্রত্যেকটা নির্মাতাই চান, তার নিজের করা কাজকে নিজে ছাড়িয়ে যেতে। তাহলেই আসলে সামগ্রিক উন্নয়ন সাধন ঘটবে শিল্প সংস্কৃতি চর্চায়।’
এই ওয়েব ফিল্মে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাশেদ মামুন অপু। এ ছাড়াও আছেন ইরফান সাজ্জাদ, শায়লা সাবি, মাকনুন সুলতানা মাহিমা, জয়রাজ, শাহেদ আলী, মনিরা মিঠুসহ আরও অনেকে।
আর