দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নব্বই দশকের নায়িকা বনশ্রী। ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে ঢাকাই সিনেমাতে অভিষেক ঘটে তার। সিনেমাটির নাম ছিল সোহরাব রুস্তম। এরপর ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় তার দ্বিতীয় সিনেমা মহা ভূমিকম্প। এই সিনেমায় দুই নায়ক মান্না ও আমিন খানের বিপরীতে অভিনয় করেন বনশ্রী।
ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না ছাড়াও আরও অনেক নায়কের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। এক সময়ের এই পর্দা কাঁপানো নায়িকা এখন বাস করেন সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে থাকেন এই নায়িকা।
বনশ্রীর পুরো নাম সাহিনা সিকদার। মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের শিকদারকান্দি গ্রামে তার বাড়ি। বাবা মজনু শিকদার ওরফে মজিবুর রহমান শিকদার ও মাতা সবুরজানের (রিনা) দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বনশ্রীই বড়। বাবা ঠিকাদারি করার কারণে সাত বছর বয়সেই শিবচর থেকে পাড়ি জমান ঢাকাতে।
নগরীতে এসে নাম লেখান সিনেমায়, জনপ্রিয়তাও পান। তবে সুখের সময়টা খুব বেশিদিনের ছিল না। একটা সময় সিনেমা থেকে সরে যান। এরপর দারিদ্র্যের কবলে পড়ে বস্তিতে থাকতে শুরু করেন।
বনশ্রী জানান, সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার পর আর্থিক অনটনের কারণে কিছুদিন ঢাকার শাহবাগের ফুল মার্কেটে ফুলের ব্যবসা করেছেন। বিভিন্ন বাসে করেছেন হকারি, বিক্রি করেছেন নামাজ শিক্ষার বইও। অভাব অনটনের মধ্যে জীবনের ঘানি টানতে না পেরে করোনা মহামারির পরে চলে আসেন নিজ উপজেলা শিবচরে। বর্তমানে বসবাস করছেন শিবচর উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৯ নম্বর ঘরে।
বনশ্রী আরও জানান, তার দুই ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়েটি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ে তখন তাকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল। এরপর মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।
তিনি দাবি করেন, তার মেয়েকে কিডন্যাপ করে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক তাকে মডেল বানিয়েছেন। এরপর তাকে আর ফেরত দেয়নি। মেয়েকে ফেরত পাওয়ার জন্য থানা পুলিশের আশ্রয় নিয়েও ফেরত পাননি। তিনি বলেন, মেয়েটির বিষয় আমি প্রশাসনের কোনো সাহায্য পাইনি। আমার মেয়েটা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে এখন কিছুই জানি না।
এ চিত্রনায়িকা আরও বলেন, এখন কষ্ট করেই দিন যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক মিটিংয়ে যাই। ছেলেটা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, ওকে সময় দেই। আমি ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করি। তবে করোনার পর থেকে আর সেলাইয়ের কাজও পাওয়া যায় না।
শেখ হাসিনার সরকার তার দুর্দিনে পাশে দাঁড়ায়। বছর কয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী তার হাতে তুলে দেন ২০ লাখ টাকা। এতেও অভাব ঘোচেনি তার। স্থায়ী ঘর না থাকায় স্বস্তিতে ছিলেন না। সবশেষে ঠাঁই হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে।
জেডএ