দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকাই সিনেমায় কলকাতার নায়িকাদের অভিনয় নতুন কিছু নয়। এর সব থেকে বড় উদাহরণ তো ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এই নায়িকা ঢালিউডে অভিনয় করেই ক্যারিয়ার দাঁড় করিয়েছেন। রচনা ব্যানার্জীও আছেন সেই তালিকায়। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন বিভিন্ন সময়ে এপার বাংলার সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে ঢালিউডে। এখনও সেখানকার নায়িকাদের কলকাতা থেকে উড়িয়ে এনে অভিনয় করানো হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আগের মতো নেই। শুটিং করতে গিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ছবির কাজ শেষ না করেই ফিরে যাচ্ছেন নিজ দেশে।
গেল ৩০ আগস্ট ‘ছায়াবাজ’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করতে ঢাকায় পা রেখেছিলেন সায়ন্তিকা ব্যানার্জী। জায়েদ খানের সঙ্গে কক্সবাজারে কয়েকদিন শুটিংও করেন তিনি। বেশ ভালোভাবেই আগ্রহ নিয়ে কাজ করছিলেন এ নায়িকা। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। প্রথম লটের শুটিং অসমাপ্ত রেখেই ফিরে যান কলকাতায়।

কলকাতায় গিয়ে ছবির প্রযোজক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রকাশ করেন সায়ন্তিকা। তার পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ ছাড়া ছবির বাকি কাজ শেষ করতে কিছু শর্ত জুড়ে দেন তিনি।
অন্যদিকে সায়ন্তিকার এসব কথা শুনে ক্ষেপে যান মনিরুল ইসলাম। এ নায়িকার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার রুপির পোশাক মেরে দেওয়ার অভিযোগ আনেন তিনি। এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
এই ঘটনার কয়েকদিন আগে কলকাতার আরেক অভিনেত্রী দর্শনা বণিক বাংলাদেশের চিত্রনাট্যকার আব্দুল্লাহ জহির বাবুর বিরুদ্ধে কু-প্রস্তাবের অভিযোগ করেন। একটি সিনেমায় চুক্তি করানোর নাম করে তাকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে কলকাতার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন তিনি।
এই দুই ঘটনার আরও আগে ভারতীয় বাংলা সিনেমার আরও এক অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয় করতে এসে খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

ঘটনাটি ২০১৭ সালের। তখন রফিক শিদকার পরিচালিত ‘হৃদয়জুড়ে’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করতে ঢাকায় এসেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। শুটিং চলাকালীন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসেন পরিচালক। কিন্তু অনীহা প্রকাশ করেন নায়িকা। বারবার বারণ সত্ত্বেও পরিচালক তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ‘হেনস্তা’ করে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন। এরপর রাগ করে দেশে ফিরে যান তিনি।
কলকাতায় ফেরার পরও নিয়মিত হোয়্যাটসঅ্যাপে ভালোবাসা-বিয়ে কেন্দ্রিক মেসেজ পাঠান রফিক শিকদার। তারপর সেই মেসেজের স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস করে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি। সেটা নিয়ে তখন কম জলঘোলা হয়নি।
পরে সিনেমাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এমন অবস্থায় কলকাতায় সিনেমার বাকি অংশের কাজ শেষ করে দেন প্রিয়াঙ্কা। তখন তার শর্ত মেনে নিয়েই শুটিং স্পটে হাজির হননি রফিক সিকদার। তিনি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তার বদলে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক।

নিকট অতীতে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পাওলি দামসহ আরও কয়েকজন অভিনেত্রী এ দেশের ছবিতে অভিনয় করে গেছেন। তাদের সঙ্গে এমন কোনো দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া যায়নি। চলচ্চিত্র সমালোচকরা বলছেন, প্রিয়াঙ্কার পর সায়ন্তিকার সঙ্গে ঘটা এমন অপ্রীতিকর ঘটনা বাংলাদেশের সিনেমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
আরএসও