দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শিল্প কোনো নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডে আটকে থাকে না। এই উপলব্ধির জায়গা থেকে স্বাক্ষরিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (সাফটা)। এর আওতায় বিগত কয়েক বছরে ভারতের সঙ্গে চলচ্চিত্র বিনিময় করেছে বাংলাদেশের কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এখনও সেই ধারা অব্যাহত।
এই চুক্তির আওতায় আজ বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের সঙ্গে একযোগে বাংলাদেশে মুক্তি পাবে ‘জাওয়ান’ সিনেমা। এর বিপরীতে রফতানি করা হয়েছে ‘নবাব এলএলবি’ সিনেমাটি।
আমদানি-রফতানির বিষয়টি সুখের হতো যদি এটি সমান সমান হতো। ভারতীয় বাংলা বা হিন্দি সিনেমা আমদানির বিপরীতে ভারতে ঢাকাই যে সিনেমাগুলো রফতানি হয়, সেগুলো আলোর মুখ দেখে না। পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা হলে দু-একটি সিনেমা সিনেমা মুক্তি পেলেও সপ্তাহের মাঝ পথে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক্ষত্রে ‘দায়’ চাপানো হয় দর্শকের অনাগ্রহের ওপর।

দেশের আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। যেন রফতানি করেই তারা খালাস। সেখানে ছবিটি মুক্তি পেল কি না— সেটা নিয়ে আগ্রহ নেই তাদের।
চলচ্চিত্র আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ইন-উইন এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘পণ্য কেনার পর কোনো ব্যবসায়ী সেটা যদি ফেলে দেন, তাহলে আমাদের কিছু বলার থাকে না। সিনেমার ব্যাপারটাও ঠিক তেমন। রফতানি করার পর কিছু বলার অধিকার নেই। খোঁজ-খবরও রাখি না। তবে এটা ঠিক, আমি মনে করি চাইলে তারা সিনেমাগুলো মুক্তি দিতে পারতেন। মুক্তি না দেওয়ার মাধ্যমে এখানকার সিনেমার প্রতি অবহেলা করছেন তারা।’
ঢাকার সিনেমা ভারতে মুক্তি দিতে সমস্যা কোথায়— প্রশ্ন ছিল কলকাতার প্রিয়া সিনেমা হলের কর্ণধার অরিজিৎ দত্তের কাছে। সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বিষয়টি অন্যভাবে বললেন। তার কথায়, ‘চলচ্চিত্র বিনিময় দুই বাংলার জন্য খুব ভালো উদ্যোগ। সাদা চোখে দেখতে গেলে এর মাধ্যমে দুই দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে বাস্তবতা হলো, ভারতের দর্শকের কাছে বাংলাদেশের সিনেমার প্রতি আগ্রহ কম। যারা সিনেমাগুলো কলকাতায় আমদানি করছেন, তারা ব্যবসার কথা চিন্তা করেই মুক্তি দিচ্ছেন না।’
একই প্রশ্ন ছিল টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখার্জীর কাছে। বাংলাদেশের সিনেমা পশ্চিমবঙ্গে নিয়মিত মুক্তি পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। শিবপ্রসাদ বলেন, “আমার ‘কণ্ঠ’ সিনেমার বিপরীতে কলকাতায় ‘খাঁচা’ সিনেমাটির বিনিময় করা হয়েছিল। কলকাতায় কিন্তু বাংলাদেশি সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। এর বাইরেও বেশকিছু সিনেমা মুক্তির খবর জানি। সুতরাং বলতে পারছি না, বাংলাদেশের ছবিকে অবহেলা করা হয়। সমস্যাটা কোথায়, সেটাও বলতে পারছি না।”

কথা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক অভিনয়শিল্পী নিয়মিত টলিউডে কাজ করছেন। এখানে তাদের জনপ্রিয়তা আছে। বরং সেই তুলনায় বলতে পারেন, বাংলাদেশে টলিউডের শিল্পীরা কাজের সুযোগ কম পাচ্ছেন।’
কিন্তু ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত থেকে এখন পর্যন্ত অনেক টলি তারকা ঢালিউডে কাজ করেছেন, জানেন নিশ্চয়ই? উত্তরে শিবপ্রসাদ বলেন, ‘জানি। তবে ধারাবাহিকতা নেই। যেমনটা ধারাবাহিকভাবে ফেরদৌস করেছেন। এখন জয়া আহসান, নুসরাত ফারিয়াসহ অন্যান্যরা করছেন।’
টলিউড প্রযোজকদের সংগঠন ইস্টার্ন মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইমপা) সভাপতি অভিনেত্রী পিয়া সেনগুপ্ত মনে করেন, কোনো অযুহাত ছাড়া ভারতে বাংলাদেশি সিনেমা মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন।
পিয়া সেনগুপ্ত বলেন, ‘বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশি সিনেমার দর্শক কলকাতায় নেই। এটা ভুল কথা। সেখানকার অনেক অভিনয়শিল্পী এখানে জনপ্রিয়। শাকিব খান, জয়া আহসান, নুসরাত ফারিয়ার মতো অনেকে নিয়মিত কাজ করছেন। তাদের জনপ্রিয়তা আছে। তাই এটা বলা ঠিক না যে, বাংলাদেশি সিনেমার দর্শক নেই। ভালো সিনেমাগুলো অবশ্যই ভারতে মুক্তি পাওয়া উচিত।’
তিনি জানালেন, দুই বাংলার চলচ্চিত্র বিনিময় সুন্দর একটি প্রক্রিয়া। এটার সুষম সমন্বয় থাকা উচিত। পিয়া সেনগুপ্ত আরও বলেন, ‘ব্যবসায়িক দিক বিবেচনায় যদি আমদানিকারকরা সিনেমা মুক্তি না দেন, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। তবে দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধনে এই বিনিময় প্রক্রিয়া একপাক্ষিক হওয়া ঠিক না।’

ভারতে রফতানিকৃত বাংলাদেশি সিনেমা মুক্তি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিনয়শিল্পীরাও। কয়েকদিন আগে জনপ্রিয় অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল জানান বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশি সিনেমা কোথায় মুক্তি পাচ্ছে— তা জানোনো উচিত। ওখানে আমাদের ছবি মুক্তি দেওয়া হয় না। আর সংস্কৃতি বিনিময়ে কথা বলে, হিন্দি সিনেমা মুক্তি দেওয়া ঠিক নয়। ওদের ছবি আমাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে যায় না।’
এদিকে দেশের চলচ্চিত্র গবেষকদের অনেকে মনে করেন, শিল্পের আদান-প্রদানে ভারসাম্য থাকা বাঞ্ছনীয়। দেশের স্বার্থ রক্ষায় দেশের সরকারকে কাজ করতে হবে। সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিতে প্রয়োজনে নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ তাদের।
আরএসও