দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার কারাবাসের ইতিহাস নিয়ে হাসাহাসি করা উচিত নয়। একই সঙ্গে সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
মেঘনা আলমের ভাষ্য, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল না। পরবর্তী সময়ে তাঁদের পরিচয় ও বাগদান হয়। জুলাইয়ের পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের প্রথম কূটনৈতিক বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন বলে দাবি করেন মেঘনা।
নিজের বক্তব্যে মেঘনা আলম বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন জেলে ছিলেন, তখন আমার সঙ্গে সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূতের পরিচয়ই ছিল না। এর অনেক পরে তাঁর সঙ্গে পরিচয় ও বাগদান হয়। কিন্তু জুলাইয়ের পর বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম কূটনৈতিক মিটিং হয় ঈসার সঙ্গে। আর এর জন্য অনেক দিন ধরে তাঁর কান ঝালাপালা করা ব্যক্তি আমি।’

মেঘনা আরও দাবি করেন, সৌদি রাষ্ট্রদূত মনে করতেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সহায়তায় নতুন সরকার গঠন করতে পারে। তবে তিনি রাষ্ট্রদূতকে বিএনপির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানান। নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই অন্য রাষ্ট্রদূতদের আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার বিষয়েও তাঁকে বুঝিয়েছিলেন বলে দাবি করেন মেঘনা।
নিজের কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে মেঘনা লেখেন, ‘একজন মহান নেত্রী বিনা অপরাধে কারাবরণ করেছিলেন, আমিও বিনা বিচারে কারাবরণের স্বাদ নিয়েছি। সেই ইতিহাস নিয়ে হাসাহাসি, নোংরামি করবেন না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মেঘনা আলম। তাঁর অভিযোগ, দেশের মানুষকে অসম্মান করা এবং এ ধরনের আচরণের কারণে বিদেশে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে বিয়ে করার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মেঘনা লেখেন, ‘আজ এই দেশের দুই নাগরিক আপনাদের এইসব নোংরামির কারণেই ভিনদেশে জীবন হারিয়েছেন। আজ আপনাদের এই নোংরামির কারণেই, নিজের দেশের মানুষকে অসম্মান করার কারণেই এই দেশের নারী-পুরুষকে বিয়ে করা সৌদিতে নিষিদ্ধ। তারা আপনাদের অকারণে ইঁদুর, মিসকিন বলে না, নোংরা মনে করে আপনাদের নিজের স্বভাবেই! নিজের দেশের মহান নেত্রীর জেলজীবন নিয়ে নোংরামি করতে লজ্জা করে না?’
পোস্টে কথিত ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো ব্যক্তিদের সেগুলো মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন মেঘনা আলম। পাশাপাশি, অন্য দেশগুলো যাতে বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে, সে ধরনের পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
এমএম/