দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বরাবরই সরব ছিলেন চিত্রনায়ক মান্না। অথচ ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত ‘ফায়ার’ ছবিতে অশ্লীল দৃশ্য থাকার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন তিনি। ছবিটি মুক্তির ২৪ বছর পর সম্প্রতি সামনে আসা এক পুরোনো ভিডিওতে পাওয়া গেল ‘ফায়ার’ নিয়ে মান্নার অবস্থান। সেখানে তিনি বলেন, ছবিটির অর্ধেক কাজ করার পরই সরে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ডাবিংয়েও অংশ নেননি।
মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলি সূত্রে পাওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ফায়ার’ ছবিতে অর্ধেক কাজ করার পর তিনি আর কাজ করেননি। এমনকি ছবিতে নিজের কণ্ঠও দেননি এবং ডাবিংয়েও যাননি।
মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না গণমাধ্যমকে জানান, ২০০২ সালে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও মান্না তার কাজ শেষ করেননি। তার দাবি, পরে মান্নার পরিবর্তে ডামি ব্যবহার করে কয়েকটি দৃশ্যের শুটিং করা হয়েছিল। ছবিটি মুক্তির পর এতে থাকা কিছু দৃশ্য নিয়ে যে অভিযোগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও বিরক্ত ছিলেন মান্না।

শেলী মান্নার ভাষ্য, মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকেরা যেসব বিষয় নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন, সেসব নিয়ে মান্নার সঙ্গে প্রযোজকের দ্বন্দ্ব হয়েছিল। তিনি বলেন, মান্না জেনেশুনে কখনো অশ্লীল ছবিতে অভিনয় করতেন না এবং অশ্লীলতার বিরুদ্ধে নিজেই লড়াই করেছেন।
পুরোনো ভিডিওতে অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয়ের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন মান্না। তিনি জানান, পুরো ছবিতে অন্য শিল্পী, পরিচালক বা প্রযোজক কী করছেন, তা তার পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, তিনি কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করেননি।
একপর্যায়ে প্রযোজকের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে ‘ফায়ার’ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানান মান্না। তবে ঠিক কোন ঘটনা নিয়ে সেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত, ভিডিওতে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শেলী মান্না বলেন, মান্না বুঝতে পেরেছিলেন ছবিতে এমন কিছু করা হচ্ছে, যা তার সঙ্গে যায় না। তার মনে হয়েছিল, তাকে ছাড়াই কিছু অপ্রাসঙ্গিক দৃশ্যের শুটিং হয়েছে। পাইরেসিসহ নানা বিষয় নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল। এ কারণে তিনি পরে ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর প্রযোজক ও পরিচালক ডামি ব্যবহার করে শুটিং শেষ করে ছবিটি মুক্তি দেন।
চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানের কথাও ভিডিওতে তুলে ধরেন মান্না। তাকে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে তিনি সব সময় অশ্লীলতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন।
শেলী মান্নাও জানান, মান্না অশ্লীল ছবিতে অভিনয় করতেন না এবং এমন ছবি নির্মাণ না করার বিষয়ে কথা বলতেন। একসময় তার এই লড়াইটা একার হয়ে গিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
অশ্লীলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার কথাও ভিডিওতে জানিয়েছিলেন মান্না। তিনি বলেন, একার পক্ষে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। এ নিয়ে তাকে ঘিরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে এবং অনেক সময় বিপদের মুখোমুখিও হয়েছেন তিনি।
সেই সময়ের চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এক নেতা জানান, তখন অনেক ছবিতে অশ্লীল দৃশ্য যুক্ত করা হতো। এর বিরোধিতা করতেন মান্না। কয়েকজন পরিচালক, ফাইট পরিচালক ও অন্য কলাকুশলীকে নিয়ে অশ্লীলতামুক্ত সামাজিক ছবি নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি।
ওই নেতার ভাষ্য, অশ্লীলতা নিয়ে আপত্তির পাশাপাশি ‘ফায়ার’-এর শিডিউল নিয়েও জটিলতা ছিল। এসব কারণেই ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান মান্না।
‘ফায়ার’ ছবিটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন মোহাম্মদ হোসেন। ছবিতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন পলি। মোহাম্মদ হোসেন দেশের বাইরে থাকায় এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ওই নেতার ভাষ্য, অশ্লীলতা নিয়ে আপত্তির পাশাপাশি ‘ফায়ার’–এর শিডিউল নিয়েও জটিলতা ছিল। এসব কারণে ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান মান্না।
‘ফায়ার’ ছবিটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন মোহাম্মদ হোসেন। তিনি দেশের বাইরে থাকায় এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সিনেমার নায়িকা ছিলেন পলি।
/অ