দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের কয়েক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দুই লাখের বেশি অনুসারী হারিয়েছেন তিনি।
খেলাধুলাভিত্তিক বেটিং অ্যাপ নভিগের ওই বিজ্ঞাপনে সিডনিকে ঘিরে যৌন আবেদননির্ভর উপস্থাপনা করা হয়। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। নারী ক্রীড়াবিদদের একটি অংশও বিজ্ঞাপনটির বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

গত বুধবার ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করেন সিডনি। এক মিনিটের বিজ্ঞাপনটি এরই মধ্যে ১১ লাখের বেশি লাইক পেয়েছে। বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর প্রথম তিন দিনে অবশ্য তাঁর অনুসারী কমেনি, বরং প্রায় ৫০ হাজার বেড়েছিল।
এরপর চিত্র বদলে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল ব্লেডের হিসাবে, রোববার সিডনির অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৪৮ জন অনুসারী কমে। পরদিন আরও প্রায় ৬৮ হাজার অনুসারী তাঁকে আনফলো করেন। সব মিলিয়ে দুই দিনে দুই লাখের বেশি অনুসারী হারিয়েছেন তিনি।
তবে সিডনির মোট অনুসারীর তুলনায় এই সংখ্যা এক শতাংশেরও কম। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি।
বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সমালোচকদের অভিযোগ, খেলাধুলার প্রচারণায় নারীর শরীরকে যৌন আবেদন তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। নারী ক্রীড়াবিদদের একটি অংশও প্রশ্ন তুলেছেন, খেলাধুলায় নারীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সাফল্যের বদলে কেন তাঁদের শারীরিক উপস্থিতিকে বিজ্ঞাপনের মূল আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার চারবারের অলিম্পিক সোনাজয়ী সাঁতারু আরিয়ার্ন টিটমাসও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিজ্ঞাপনটির সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, নারীর শরীরকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন এবং নারী খেলাধুলাকে যৌন আবেদন তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার এখনো কেন চলছে।
সমালোচনার মধ্যে বিজ্ঞাপনটি নিয়ে নিজের অবস্থানও জানিয়েছেন সিডনি। গত সপ্তাহে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রচারণাটি ছিল একটি মজার ভাবনাকে তুলে ধরার চেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, সব ধরনের কোলাহল সরিয়ে দর্শকের পুরো মনোযোগ খেলাধুলার দিকে দেওয়াই ছিল এর মূল ধারণা। আত্মবিশ্বাস, রসিকতা ও খেলাচ্ছলে সেই ভাবনাই প্রচারণায় তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নভিগের সঙ্গে সিডনির সম্পর্ক শুধু বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি মালিকানারও অংশীদার। বিজ্ঞাপনে প্রতিষ্ঠানটির বেটিং প্ল্যাটফর্মে যুদ্ধ, মৃত্যু বা রাজনীতি নিয়ে বাজির সুযোগ নেই বলেও তুলে ধরা হয়। এখানে শুধু খেলাধুলা নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সমালোচনার মধ্যেই রোববার নভিগের বিজ্ঞাপনের কয়েকটি ছবি ও ভিডিও আবার নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন সিডনি। ক্যাপশনে লেখেন, ‘ইটস গেমডে।’ সঙ্গে নভিগের অ্যাকাউন্ট ও হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন তিনি।
এরপর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইএসপিএনের ‘বডি ইস্যু’র কয়েকটি প্রচ্ছদও প্রকাশ করেন সিডনি। ওই বিশেষ সংখ্যায় অতীতে বিভিন্ন ক্রীড়াবিদকে তুলে ধরা হয়েছিল। সিডনির এই পোস্টকে অনেকে বিজ্ঞাপনটির সমালোচনার জবাব হিসেবে দেখেছেন। তবে সমালোচকদের উদ্দেশে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্কে সিডনির নাম এর আগেও এসেছে। গত বছর আমেরিকান ইগলের একটি জিনসের বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ওই প্রচারণার স্লোগান ঘিরে শব্দের খেলা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
চলতি বছর নিজের অন্তর্বাসের ব্র্যান্ড সির্নের প্রচারণাতেও আবেদনময় উপস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় আসেন সিডনি। তবে নভিগের বিজ্ঞাপনকে ঘিরে এবারের বিতর্কে নারী ক্রীড়াবিদদের একটি অংশ সরাসরি আপত্তি জানানোয় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এমএম/