দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বজুড়ে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করলেও নিজের চিন্তার ক্ষমতা প্রযুক্তির কাছে বন্ধক দেওয়া যাবে না। এমনটাই বলছেন গবেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনসাইড হায়ার পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ কলেজশিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনায় এআই ব্যবহার করছেন। অনেকে তো নিজের প্রবন্ধ পুরোটাই চ্যাটবট দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছেন। প্রযুক্তির এই অন্ধ অনুকরণ শিক্ষার্থীদের মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতি দেখে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জামিল জাকি এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তাঁর পুরো ক্লাসকে ‘প্রযুক্তিহীন’ (টেক-ফ্রি) ঘোষণা করেছেন। ২০২৪ সাল থেকে তাঁর পরিচালিত কোর্সের পরীক্ষাগুলো নেওয়া হচ্ছে সনাতন কাগজের খাতায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের কলম দিয়ে হাতে লিখে উত্তর দিতে হয়।
অধ্যাপক জামিল জাকির মতে, লেখালেখি কেবল কোনো চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তার জগৎকে শাণিত করার প্রধান হাতিয়ার।
তিনি হাতে লেখার পক্ষে তিনটি বড় কারণ দেখিয়েছেন -
মানসম্পন্ন পরিবেশ তৈরি: এআই দিয়ে লেখা প্রবন্ধগুলো দেখতে সুন্দর হলেও ভেতরে আসলে কোনো গভীরতা থাকে না। একে বলা হচ্ছে ‘টেক্সট পলিউশন’। ভাষা কেবল তথ্য দেওয়ার জন্য নয়, মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের লেখার সহজাত সৌন্দর্য ও আবেগ নষ্ট করে দিচ্ছে।
মস্তিষ্ককে সচল রাখা: মনোবিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বা চিন্তার আত্মসমর্পণ। যখন আমরা এআইয়ের ওপর পুরো ভরসা করি, তখন আমাদের নিজেদের মস্তিষ্ক অলস হয়ে পড়ে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই দিয়ে কোনো যুক্তি তৈরি করলে তা ভুল হলেও প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ তা ধরতেই পারেন না।
লেখাই হলো ভাবনার ব্যায়াম: একটি সাদা পাতা মানুষের সামনে একধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। নিজের মাথার ভেতরের এলোমেলো ভাবনাগুলোকে গুছিয়ে শব্দে রূপ দেওয়ার মাধ্যমেই মানুষের বুদ্ধিমত্তা বাড়ে। মন দিয়ে লিখলে মানুষের স্মৃতিশক্তি উন্নত হয় ও দুশ্চিন্তা কমে।
প্রযুক্তির এই প্রভাব থেকে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা এখন অ্যাসাইনমেন্ট ও থিসিস লেখার জন্য ব্যাপকভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভর করছেন।
শিক্ষকেরা বলছেন, অনেক শিক্ষার্থী নিজেরা কোনো পড়াশোনা না করেই হুবহু চ্যাটবটের লেখা জমা দিচ্ছেন। এর ফলে আমাদের তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। চাকরি বাজারে যখন এই তরুণেরা প্রবেশ করছেন, তখন তারা বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছেন। কারণ, প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান করতে হলে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়, যা এআই শিখিয়ে দিতে পারে না।
শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় মানুষ যেভাবে শরীর ঠিক রাখতে জিমে যায়, ঠিক তেমনি অলস হয়ে যাওয়া মস্তিষ্ককে সচল রাখতে এখন লেখার অভ্যাস করা জরুরি।
অধ্যাপক জামিল জাকি মনে করেন, প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করলেও নিজের চিন্তার ক্ষমতা প্রযুক্তির কাছে বন্ধক দেওয়া যাবে না। তাই নিজেকে বুদ্ধিদীপ্ত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হলে এআইয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজের হাতে লেখার ও ভাবার অভ্যাস করতে হবে। তথ্যসূত্র: সিএনবিসি
কে