দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে শহিদ হাফিজুর মোল্লা ও শহিদ আবু বকর ছিদ্দিকের স্মরণে “নির্যাতিতের আর্তচিৎকার: গেস্টরুম ও গণরুমের ভয়াবহতা” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হুসাইন আল মারুফ বলেন, ‘১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করলে এই গণরুম-গেস্টরুম কালচার চালু হয়। পরবর্তীতে ছাত্রলীগ এটিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যায়।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাবি শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খান, সাহিত্য ও ক্রীড়া সম্পাদক ও ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হুসাইন আল মারুফ, শাহিনুর রহমান, মানবাধিকার সংগঠন সোচ্চার স্টুডেন্ট নেটওয়ার্কের ঢাবি শাখার সভাপতি আনাস বিন মুনির এবং নির্যাতিত শিবির নেতা রাকিবুল ইসলাম।
সাবেক শিবির নেতা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা শিবিরের সভাপতি ছিলাম। ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আসরের নামাজের পর আমি হলের রুমে পড়াশোনা করছিলাম। তখন ছাত্রলীগের কয়েকজন ক্যাডার আমাকে টেনে হেঁচড়ে রুম থেকে বের করে ৪৬২ নং রুমে নিয়ে যায় এবং ফোন পরীক্ষা করে। ফোনে কিছু না পেয়ে তারা আমাকে ক্রিকেট ব্যাট, স্ট্যাম্প, হকিস্টিক দিয়ে মারধর শুরু করে। পরে তারা আমার জুনিয়র বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে ধরে এনে তার ওপরও নির্যাতন চালায়।’
রাকিবুল বলেন, ‘ওই দিনের নির্যাতনের ফলে আমি মানসিক ট্রমায় চলে যাই এবং আমার একাডেমিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। পুলিশ আমাকে ছাড়তে চেয়েছিল, কিন্তু 당시 ঢাবি প্রক্টর আমজাদ হোসেন ছাড়তে দেননি। নির্যাতনকারীর অনেকেই এখনো অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন; কেউ এনএসআই-তে, কেউ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে শিক্ষকতা করছেন, আর অনেকে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত।’
সোচ্চার স্টুডেন্ট নেটওয়ার্কের ঢাবি শাখা সভাপতি আনাস বিন মুনির বলেন, ‘বিশ্বের নানা স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর ক্যাম্পাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—এ ধরনের ঘটনা বিরল।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণরুম-গেস্টরুমে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হতো ছাত্রলীগের প্রোগ্রামের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতে। যারা তা না করতো, তাদের ওপর প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হতো। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যেত এবং পড়াশোনায় মনোযোগ রাখতে পারত না।’
সভায় সাজ্জাদ হোসাইন খান বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী সময়ে প্রত্যেক ছাত্রসংগঠনের দায়িত্ব হলো গণরুম-গেস্টরুমের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধ এবং তাই আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করছি।’
এমএস/