দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) এলাকায় ভাসমান দোকান থেকে চাঁদাবাজির ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া থেকে ডাকসু সদস্যদের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়।
বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘চাঁদাবাজদের ঠিকানা- এই ক্যাম্পাসে হবে না’- এ ধরনের নানা স্লোগান দেন।
একই জায়গায় পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তি। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।
সমাবেশে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজির ঘটনা নতুন নয়। টিএসসি, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, নীলক্ষেত ও মেট্রোরেল সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলমান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় তা ব্যাহত হয়েছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে ভাসমান দোকান বসতে দেয়া বাবদ চাঁদা নেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন ডাকসু নেতারা। ছাত্রদলের তিন নেতা ও ছাত্রশক্তির এক নেতাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন ডাকসুর সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। পোস্টে চাঁদাবাজির সাথে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণস্বরূপ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।
ডাকসু নেতার দাবি, ভাসমান দোকান উচ্ছেদ এবং না বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে, দোকানিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের পরিচয় দিয়ে দোকান বহাল রাখতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এই দোকান দিয়েছে, তারা কর্মচারী হিসেবে কাজ করছে বলেও জানাতেন।
চাঁদাবাজের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলো- ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান আব্দুল্লাহ, মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কাউসার, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হাসান সাদ, গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল গণি সগীর এবং আবিদ আব্দুল্লাহ।
অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজির কথা ডাকসু নেতাকে বলে দেওয়ায় একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানও পুড়িয়ে দেওয়া অভিযুক্তরা।
তবে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির নেতাদের দাবি, ডাকসুর ব্যানার ব্যবহার করে একটি পক্ষ ক্যাম্পাসে মব সংস্কৃতি চালু করছে। দোকান উচ্ছেদের মাধ্যমে বন্ধ করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তারা।
এবি/