দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ ও এজিএস মহিউদ্দিন খানের পর এবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলায় আহত সানজিদা আহমেদ তন্বী।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
তন্বীর স্বামীর নাম জিহাদ আবদুল্লাহ। তিনি পেশায় সাংবাদিকতা, একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে তিনি সাংবাদিকতা করছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে একই দিনে আকদ সম্পন্ন করেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ ও এজিএস মহিউদ্দিন খানের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাঁটাবন মসজিদে একই দিনে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদার সঙ্গে এস এম ফরহাদের আকদ সম্পন্ন হয়। তবে মহিউদ্দিন খানের কার সঙ্গে আকদ সম্পন্ন হয়েছে তা জানা যায়নি।
এদিকে বিয়ের পর ফেসবুক স্ট্যাটাসে তন্বী লিখেন, কিছু কিছু বন্ধন এত সহজভাবে তৈরি হয় যে মনে হয় সবটাই যেন আগে থেকে ঠিক করা ছিল। আমাদের প্রথম আড্ডাটার কথা আজও পরিষ্কার মনে পড়ে—বন্ধুদের বোকা বানানোর জন্য সেই অদ্ভুত মজা নিয়ে আমাদের হাসাহাসি, মুহূর্তটার হঠাৎ ওলটপালট হয়ে যাওয়া, একদম ছোট ছোট জিনিসে আমাদের দুজনের একইরকম আনন্দ খুঁজে পাওয়া, আর আমার ভেতরকার ছটফটে রোমাঞ্চপ্রিয় সত্তাটাকে তোমার অবলীলায় আপন করে নেওয়া। সেই সাধারণ মুহূর্তগুলোতেই কখন যে মনের অজান্তে এমন সব স্মৃতি জমিয়ে ফেলেছিলাম, যা আমি বারবার ফিরে দেখতে চাইব।
তন্বী আরও লেখেন, ঠিক কোন মুহূর্তে আমি তোমার প্রেমে পড়েছিলাম, সেটা আমার মনে নেই। কিন্তু ঠিক কোন মুহূর্তে আমি বুঝেছিলাম যে তুমিই আমার সেই কাঙ্ক্ষিত মানুষ, তা আমার স্পষ্ট মনে আছে। সেই যে ‘উড়তে পারিন্দে’... মনে পড়ে?
‘সময়ের সাথে সাথে তুমি তোমার ভালোবাসাকে সবচাইতে নিখাদভাবে প্রমাণ করেছ। আজ আমি হৃদয়ের গভীর থেকে জানি যে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তুমি পাশে থাকবেই। যখন আমি ভয় পাব, যখন সব কিছু ভুল পথে যাবে কিংবা যখন পৃথিবীটা বড্ড ভারী মনে হবে—আমি জানি তুমি শুধু একটি ফোনের দূরত্বে আছো। এই অনুভূতিটা যে কত বড় প্রশান্তির, আমি যে একা নই এই বিশ্বাসটা যে কতটা শক্তির—তা আমি কখনোই পুরোপুরি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’
তিনি আরও লেখেন, আর আজ আমরা আমাদের জীবনের সবচাইতে বড় পদক্ষেপটি নিলাম। আমি তোমাকে একটি মাত্র কথা দিতে চাই, যা খুব সাধারণ কিন্তু আমার জীবনের সবচাইতে গভীর প্রতিশ্রুতি: আমার জীবনের বাকিটা সময়, প্রতিটি দিন, আমি শুধু তোমাকেই বেছে নেব। বারবার, হাজারবার।
গত বছরের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হন সানজিদা আহমেদ তন্বী। তার রক্তে মাখা ভীত মুখটি ভাইরাল হয় এবং আন্দোলন বেগবান করতে ছবিটি ব্যাপক অনুপ্রেরণা জোগায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে জয় পান সানজিদা আহমেদ তন্বী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১১ হাজার ৭৭৭টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি।
এবি/