দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নন তিনি। খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ফলাফলে অসংগতি রয়েছে কি না, তা বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ এবং আগের ফলাফল তদন্ত করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলাফলে কোনো অসংগতি থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। এরপর ফলাফলে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা বোঝা যাবে।
মন্ত্রী বলেন, গত বছর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের পর অনেক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছিল। এবারও কী হয়, তা দেখতে চান তাঁরা। পরীক্ষকদের মূল্যায়নে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। আপাতত ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ত্রুটি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এ সময় পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এর আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন।
এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের বিষয়টিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতি আবার পর্যালোচনা করা হবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাঁদের মূল্যায়নে বেশি গরমিল পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে। আগামী দিনে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যেমন লিখেছে, ঠিক সেভাবেই যেন তাদের মূল্যায়ন করা হয়। ভুল মূল্যায়নের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন অনুৎসাহিত না হয়। সবার জন্য স্বচ্ছ ও নির্ভুল ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এমএম/