দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তিত শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ বাড়াতে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে।
শুক্রবার চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিয়ানজিনের মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘টিভেট: পরিবর্তনকে যৌথভাবে গ্রহণ, যৌথভাবে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা এবং যৌথভাবে ভবিষ্যৎ নির্মাণ’। সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী, ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল, ইউনেসকোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান এবং কারিগরি শিক্ষাবিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, দেশটির স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেসকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি।’
তিনি বলেন, টিভেট এমন একটি সেতুবন্ধন, যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে, একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে। ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন।
বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কর্মসূচি কেবল নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এমন একটি জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে পাঠ্যক্রম শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, শিক্ষকরা পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা হালনাগাদ করবেন এবং শিক্ষার্থীরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। পাশাপাশি জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই সফরে দুই দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করা হচ্ছে।
সুত্র-বাসস
এমএম/