দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানোর প্রশাসনিক আদেশ অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে তাঁদের যোগদান করানোর পথে আর কোনো বাধা থাকল না। পাশাপাশি যোগদানের পরপরই তাঁদের পদায়ন নিয়েও শঙ্কা দূর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের দুজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের যোগদানপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর বিষয়ে প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার এতে সই করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ অধিদপ্তরে এলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে যোগদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে অধিদপ্তরের। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়া গেলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আশা করা হচ্ছে, ১ অক্টোবরের মধ্যেই সব সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক যোগদানপত্র হাতে পাবেন। এরপর তাঁদের পদায়ন করা হবে।
প্রশিক্ষণের আগে ক্লাসে নয়
যোগদানের পর সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে। তবে পদায়ন পেলেও তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ক্লাসে অংশ নেবেন না। যোগদানের পর নতুন এসব সহকারী শিক্ষক প্রশিক্ষণে যাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা ক্লাস নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রশিক্ষণের আগে নতুন শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত। দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা স্কুলে ক্লাস নিতে পারবেন। তার আগে তাঁদের ক্লাসে পাঠানো হবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা কিছুটা তড়িঘড়ি নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিএনপি সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও বিভিন্ন ব্রিফিং ও অনুষ্ঠানে এ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও তাড়াহুড়ো নিয়ে বক্তব্য দেন।
পরে সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদানের শর্ত হিসেবে প্রশিক্ষণে পাস করার কথাও জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। তবে এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রশিক্ষণের মডিউল তৈরি করা নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে কারও নিয়োগ বাতিল হবে বলে তিনি মনে করেন না। তবে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত প্রশিক্ষণ মডিউলে যুক্ত করা হবে কি না, তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায়, পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া, একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগের সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান ও পদায়নের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এমএম/