দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্ববাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই কমেছে স্বর্ণের দাম। সোমবার (৩১ আগস্ট) লেনদেনের একপর্যায়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ১৯ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম সামান্য কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৫৫ দশমিক ১৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এতে প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০৬ দশমিক ৬০ ডলার।
স্বর্ণের দাম কমার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে নতুন প্রত্যাশাকে দেখা হচ্ছে।
ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ সম্প্রতি জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যে ফিরে আসছে—এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকেরা নিশ্চিত না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে আরও কাজ রয়েছে।
ওয়ার্শের এই বক্তব্যকে বাজার বিশ্লেষকেরা তুলনামূলক কঠোর অবস্থান হিসেবে দেখছেন। এর প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারেও। এর আগে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। একদিনে এত বড় পতন গত ১০ জুনের পর আর দেখা যায়নি।
এদিকে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে বাজারে প্রত্যাশাও বেড়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখন ৬২ শতাংশ। ওয়ার্শের মন্তব্যের আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৩৬ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বাড়লে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়। কারণ, সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের তুলনায় সুদযুক্ত সম্পদ তখন বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায়ও স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সাধারণত স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আকর্ষণীয় করে তুললেও এবার এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং ফেডের কঠোর নীতির প্রত্যাশাও কাজ করছে।
অ্যাকটিভট্রেডসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তার মতে, কেভিন ওয়ার্শের কঠোর অবস্থানের পর সোনার ওপর চাপ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও বেড়েছে।
সাম্প্রতিক পতন সত্ত্বেও আগস্ট মাসে স্বর্ণের দাম এখনো ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জানুয়ারির পর এটিই স্বর্ণের সবচেয়ে বড় মাসিক মূল্যবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম উঠেছিল ৪ হাজার ৬৯৬ দশমিক ১৮ ডলারে, যা তিন মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এমএম/