দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার করে দেশকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ এখন ঋণনির্ভর থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির পথে যাত্রা শুরু করেছে।
সোমবার ( ২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেট কেবল সরকারের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি নয়; এটি জনজীবনে স্বস্তি আনা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কাঠামোগত সংস্কার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা।’ তিনি উল্লেখ করেন, উত্তরাধিকার সূত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেলেও সরকারের ৩আর (রিকভারি, রেস্টোরেশন, রিকন্সট্রাকশন) কৌশলে দ্রুত সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
প্রস্তাবিত বাজেটে ৭.৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ও ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয়ের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে নেওয়া হয়েছে। মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ৬১টি পণ্যের উৎসে কর হ্রাস এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।
প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি আস্থার প্রতিফলন। আইসিটি, কৃষি ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে মূলধারায় এনে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, করের হার বাড়িয়ে নয়, করের ভিত্তি বাড়িয়ে লক্ষ্য অর্জন করা হবে। এনবিআর প্রথমবার ৪ লাখ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাটের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তবে কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে।
তিনি আরও জানান, আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করা হচ্ছে এবং পরিচালন ব্যয় কমিয়ে ৬৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে। বিগত সরকারের অপ্রয়োজনীয় ঋণ নেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে মোট ঋণ জিডিপির ৩৮.৬১ শতাংশ। ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো হচ্ছে।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের টাকা আত্মসাৎকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। পাঁচটি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের জন্য ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত রাখা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হ্রাসসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেটের সাফল্য ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নে। সরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশগত সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেবে।
এমএম/