দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি রাজস্ব আয়। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা।
সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম প্রায় ১৮ শতাংশের বেশি। এমন বাস্তবতায় নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আরও উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত কঠিন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। যদিও এই সময়ে ইতিহাসে সর্বোচ্চ আদায়, তবুও লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা।
অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে চাপ ছিল। প্রথম পাঁচ মাসে ঘাটতি ছিল ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। ছয় মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। আর নয় মাসে তা পৌঁছে যায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকায়। ফলে বছর শেষে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থার মধ্যেই আগামী অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণের জন্য প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলছেন, নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো গেলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরি বলছেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম। তাই, এনবিআরের রাজস্ব আহরণের ব্যর্থতা রোধ করতে জোর দিতে হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরি বলছেন, বিদ্যমান কর কাঠামো, দুর্বল কর প্রশাসন, কর ফাঁকির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। ফলে, ঋণ নির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা দেখছেন তাঁরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং কার্যকর সংস্কারই হতে পারে রাজস্ব ঘাটতির দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসার প্রধান পথ।
ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেটের সঙ্গে এসেছে বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও। কিন্তু অতীতের আদায় সক্ষমতা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
কে