দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসাবান্ধব হিসেবে মূল্যায়ন করছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। ব্যবসা সহজীকরণ, কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর এবং অগ্রিম ও উৎসে কর ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনকে তারা স্বাগত জানালেও, করপোরেট কর হ্রাসে সুস্পষ্ট রোডম্যাপের অভাব বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নের ওপর।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট প্রস্তাব করেছেন। প্রায় দুই দশক পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর কর ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। বিশেষ করে উৎসে কর কর্তনকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তবে সবচেয়ে বড় আপত্তি করপোরেট কর নিয়ে। তিনি বলেন, করপোরেট কর কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকলে বাংলাদেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ কঠিন হবে। ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। তবে এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে কর কাঠামো আরও সহায়ক হওয়া জরুরি। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, শুধু কর হার কমানোই বিনিয়োগ বৃদ্ধির একমাত্র শর্ত নয়। বিনিয়োগকারীদের নীতিগত স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সহজ ঋণপ্রাপ্তি এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটে কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর, লাইসেন্স নবায়ন সহজীকরণ এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
কেএম