দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টানা দরপতন, লোকসান আর আস্থাহীনতায় চরম সংকটে দেশের পুঁজিবাজার। সাত দশকের যাত্রায় শিল্পায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় মাধ্যম হওয়ার কথা থাকলেও, এখনও স্থায়ী মূলধন গঠনে এ খাতের অবদান মাত্র ৬ শতাংশ। প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার এ বাজার টেনে তুলতে আসন্ন বাজেটকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকদের আশা, নীতিগত সহায়তা, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তি এবং বাজারে সুশাসন নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ থাকবে বাজেটে।
সাত দশক আগে যাত্রা শুরু হওয়া দেশের পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো যেন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। টানা দরপতন, বিনিয়োগকারীদের অব্যাহত লোকসান আর নীতিগত অনিশ্চয়তায় বাজারে অনাস্থা যেন স্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে।
দেশের শিল্পায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের অন্যতম উৎস হওয়ার কথা পুঁজিবাজার। অথচ এখনও মোট অর্থায়নে এ খাতের অবদান সীমিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী মূলধন গঠনে পুঁজিবাজারে অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আহমেদ রশিদ লালী বলেন, ‘ব্যাংকনির্ভর অর্থনীতির বাইরে এসে শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প হতে পারতো পুঁজিবাজার। কিন্তু দুর্বল নিয়ন্ত্রণ, কারসাজি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট বাজারকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় যেতে দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু প্রণোদনাই নয়, বাজার ঘুরে দাঁড়াতে সবচেয়ে প্রয়োজন আস্থা পুনরুদ্ধার। এজন্য বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা, দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা জরুরি।’
ঢাকা ব্রোকারেজ এ্যসোশিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এমন বাস্তবতায় আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজার বান্ধব নীতি সহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক প্রণোদনা আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পুঁজিবাজার পুনরুদ্ধারে দরকার কার্যকর কর সুবিধা, নতুন বিনিয়োগ উৎসাহ এবং শক্তিশালী নীতিগত সংস্কার।’
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু কর ছাড় দিয়ে পুঁজিবাজারে গতি ফেরানো সম্ভব নয়। শিল্প অর্থায়নে ব্যাংকখাতের চাপ কমিয়ে পুঁজিবাজারমুখী করতে হলে বাজেটে থাকতে হবে সমন্বিত পরিকল্পনা।
/অ