দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা সাড়ে তিনশোর মতো। অথচ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পারে এমন কোম্পানি হাতে গোনা। ফলে বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ মূলধন মাত্র ১০ কোম্পানির দখলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার বাড়লে বাজার বাড়ে, কমলে পুরো বাজার পড়ে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতির আকার বাড়লেও সেই অনুপাতে পুঁজিবাজার না বাড়ার কারণ ভালো কোম্পানির সংকটে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শত শত কোম্পানির মধ্যে অধিকাংশই কম লেনদেন হওয়ায় বাজার নির্ভর করছে হাতেগোনা বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গেল অর্থবছর শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে শীর্ষ কয়েকটি কোম্পানির কারণে। দেখা গেছে, শীর্ষ ১০ কোম্পানির দখলে প্রায় ৪০ শতাংশ বাজার মূলধন একই সময়ে মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি অনুপাত কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা অর্থনীতির তুলনায় পুঁজিবাজারের পিছিয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আহমেদ রশীদ লালীর মতে, বাজারে মানসম্পন্ন কোম্পানির সংকট শুধু বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, নিরুৎসাহিত করছে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগও। ফলে বাজারে বৈচিত্র্য তৈরি হচ্ছে না, কমছে তারল্যও। এদিকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ইতোমধ্যে ভালো কোম্পানিকে দ্রুত বাজারে আনার জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিং চালুর উদ্যোগ এবং ভালো শেয়ারে ডে-নেটিং সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ বলছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বাজারে নতুন গতি আসতে পারে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলছেন, ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প বিনিয়োগে পুঁজিবাজারকে কার্যকর করতে হলে প্রয়োজন নতুন আইপিও, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং কঠোর তদারকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারবে পুঁজিবাজার।
কেএম