দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাক চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সংকটের সমাধান শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি না পাল্টালে এই সংকট দূর করা সম্ভব হবে না। এটি শুধু অর্থনৈতিক কিংবা অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিষয় না, এটি এখন সার্বিক সরকারের বিষয়। কাঙ্ক্ষিত সমাধানের জন্য সার্বিকভাবে সরকারের পদক্ষেপ নিতে হবে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে দেশের ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়, প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টর : জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সেমিনারের আয়োজন করে ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান অর্থনীতিতে অনেকগুলো বিষয়ে আমাদের মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু, ছয়টি বিষয়ে কারো কোনো বিরোধ নেই।
সেগুলো হলো- (১) ব্যাংকিং খাতে বিপর্যয়,
(২) অতীতের কলুষিত নীতি-প্রক্রিয়া,
(৩) আমানতকারীর দুঃখ-কষ্ট,
(৪) ব্যাংকিং সংকটে অর্থনৈতিক স্থবিরতা,
(৫) জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে নতুন সম্ভাবনা এবং
(৬) টেকসই সমাধান।
তিনি বলেন, সংকটের চরিত্র আমরা বুঝতে পেরেছি। অর্থনৈতিক দুরবস্থা তথা ব্যাংকিং খাতের সংকট এখন দৃশ্যমান। ব্যাংকিং খাতের সংকট শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, বাহ্যিকও কিছু সমস্যা আছে। এখানে সুশাসনের অভাব যেমন আছে, একইসঙ্গে আইনের কাঠামোতেও সমস্যা আছে। এখন আমাদের সমাধানের দিকে এগোতে হবে। সমাধানের পথ কি হতে পারে, সেটি খুঁজতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতির নীতি নির্ধারক যারা রয়েছেন, তাদের কাছে এই ম্যাসেজটি পৌঁছে দিতে হবে যে, ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয় সমাধান না হলে অর্থনৈতিক ধসও মোকাবিলা সম্ভব হবে না। আমাদের দেশে অনেক অনেক সংকট রয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের বিষয়টি আসলেই সেখানে ব্যাংকিং খাতের সংকটের কথা আসে। এই সংকট মোকাবিলায় শুধু অর্থনৈতিক পরিবর্তন দিয়ে নয়; বরং রাজনৈতিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং রেজুলেশনের ধারা সংশোধন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, এটিকেও সমাধান করতে হবে। এছাড়া আরও যে বিষগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে, এর মধ্যে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি একটি সমাধানের দিকে যেতে হবে। তাদের আমানতের বিপরীতে পর্যাপ্ত ফান্ডের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, স্থবির অর্থনীতি যদি আরও ঘনীভূত হয়, তাহলে আমাদের আরও বড় সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন করতে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে যারা দায়িত্বে আসবেন, তাদের তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। (এক) নৈতিক উচ্চতা, (দুই) পেশাদারিত্ব এবং (৩) সংকট সমাধানে সাহসী উদ্যোগ নিতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, মানবদেহে শিরা-উপশিরায় সমস্যা হলে যেমন শারীরিক অসুস্থ বোধ হয়, ঠিক তেমনি ব্যাংকিং খাতেও কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে পুরো খাতে সমস্যা দেখা দেয়। এই মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা আস্থার সংকট। এই সংকট দূর করতে হলে যারা লুটপাট ও অপরাধ করেছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা আশা করছি, নির্বাচিত সরকার সেটি নিশ্চিত করবেন।
তিন বলেন, আরেকটি বিষয় হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্বাধীনতা না থাকলে অনেক সিদ্ধান্তই স্বচ্ছতার সঙ্গে নেওয়া যায় না। এছাড়া ক্যাশলেস ট্রানজেকশন বাড়াতে হবে, এতে অর্থ পাচার কমে আসবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বারবিডা সভাপতি মো. আব্দুল হাই বলেন, সরকার ব্যাংক লুট করার জন্য পথ তৈরি করে দেয়, এমন উদাহরণ বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীতে বিরল। পুঁজিবাদের চেহারা কেমন হওয়া উচিত? লুটেরা, অলিগার্ক তৈরির মতো নাকি আইনসিদ্ধ হওয়া উচিত, এই সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারকে নিতে হবে। বর্তমান সরকার যেহেতু বিপ্লবী রক্তের ওপরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারা নিশ্চয়ই বাংলাদেশের পুঁজিবাদকে জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেবে।
কে