দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তরুণ সমাজকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা, অকাল মৃত্যু রোধ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিটি সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১৭ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও ইউনাইটেড ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো।
সোমবার (১১ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটি সিগারেটের চারটি মূল্যস্তর প্রিমিয়াম, উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন পুনর্নির্ধারণ করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্তরের ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ৬৭ শতাংশ আবগারি শুল্ক এবং প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর আরোপ করা হলে প্রতিটি সিগারেটের খুচরা মূল্য দাঁড়াবে ৩৫ টাকা।
উচ্চ মূল্যস্তরের প্রতি প্যাকেটের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই হারে শুল্ক ও কর যুক্ত হলে প্রতি শলাকা সিগারেটের মূল্য হবে ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা, যা বর্তমানে বিদ্যমান দামের তুলনায় প্রায় ২ টাকা বেশি।
এ ছাড়া মধ্যম ও নিম্নস্তরের ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ৮০ ও ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে ৬৭ শতাংশ আবগারি শুল্ক ও নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর যোগ হলে প্রতিটি সিগারেটের দাম দাঁড়াবে ১৭ টাকা ১ পয়সা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হলে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবেন এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে।
দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ জন তরুণের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলেও দাবি করা হয়।
একই সঙ্গে তামাক ব্যবহারের হার প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে আসবে এবং ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তামাক কর রাজস্ব আদায় হতে পারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “সব ধরনের দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু সিগারেটের দাম কেন বাড়বে না? আমরা সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি, যাতে অর্থনৈতিক কারণেই তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত হয়।”
তিনি বলেন, ধূমপানের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ও তরুণরা ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
ডা. মুশতাক হোসেন আরও বলেন, অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব জনস্বাস্থ্য খাতে, বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ব্যয় করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সুফিয়ান নাহিন শিমুল বলেন, “দেশে সব পণ্যের দাম বাড়ে, কিন্তু সিগারেটের দাম বাড়াতে এনবিআরের এত আপত্তি কেন?”
তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ সিগারেট বাজার নিম্ন ও মধ্যমস্তরের দখলে থাকায় মূলত এই দুই স্তরের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এই শ্রেণির ভোক্তারা দামের বিষয়ে খুব সংবেদনশীল। একইভাবে যারা নতুন করে ধূমপান শুরু করে, তাদের কাছেও দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে দাম বাড়লে তারা ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে।
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, দেশে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রে ধূমপান প্রধান কারণ।
তিনি বলেন, একটি সিগারেটে প্রায় ৭ হাজার রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার মধ্যে অন্তত ৭০টি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর প্রায় ১২ হাজার মানুষ শুধু ফুসফুস ক্যান্সারে মারা যায়।
জে আই