দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে প্রদর্শনী হলজুড়ে আধুনিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের মডেল, ককপিটের অনুকরণ এবং সর্বশেষ এভিয়েশন প্রযুক্তির প্রদর্শনী চলছে। এর মধ্যেই বিশেষ দৃষ্টি কেড়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কমাক। দুই বছর আগে তাদের সি৯১৯ যাত্রীবাহী বিমান প্রথমবারের মতো চীনের বাইরে সিঙ্গাপুরে উড়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য এক বড় মাইলফলক ছিল।
এয়ারবাস এ৩২০নিও এবং বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তৈরি সি৯১৯ এখন কেবল চীনের ভেতর নয়, বিদেশি বাজারেও লক্ষ্য স্থির করছে। কমাকের ভাষায়, তারা এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এভিয়েশন বাজারে প্রবেশের দিকে নজর দিচ্ছে।
বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল এভিয়েশন বাজার এশিয়া-প্যাসিফিকে বোয়িং ও এয়ারবাসের ডেলিভারি বিলম্ব ও সরবরাহ সংকটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কমাক নিজেকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমাক বৈশ্বিক প্রতিযোগী হয়ে উঠবে, তবে এতে সময় লাগবে। তাঁর মতে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বোয়িং, এয়ারবাস ও কমাক—এই তিনটির নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হবে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের এয়ারলাইনগুলো বর্তমানে বড় দুই নির্মাতার ডেলিভারি বিলম্ব, ইঞ্জিন সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় ভুগছে। আইএটিএর তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিমান পেতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে, ফলে বহরের গড় বয়স বাড়ছে এবং জ্বালানি ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। উইলি ওয়ালশ বলেন, পর্যাপ্ত বিমান পাওয়া গেলে ২০২৬ সালেই এ অঞ্চলের এয়ারলাইনগুলো দ্বিঅঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখতে পারত, কিন্তু এখন অর্ডার থেকে ডেলিভারি পেতে প্রায় সাত বছর লেগে যাচ্ছে।
এই বাস্তবতায় কমাক অনেক এয়ারলাইনের জন্য বিকল্প হয়ে উঠছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক সি৯০৯ ও সি৯১৯ বিমান সরবরাহ করেছে, যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ লাওস, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের এয়ারলাইনগুলো পরিচালনা করছে। ব্রুনেইয়ের গ্যালপএয়ার বড় অর্ডার দিয়েছে এবং কম্বোডিয়াও প্রায় ২০টি বিমান কেনার পরিকল্পনা করছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক সুভাষ মেনন বলেন, এই শিল্পে সরবরাহ ব্যবস্থা অনেকটা অলিগোপলি বা কখনো কখনো দ্বৈত আধিপত্যের মতো, তাই নতুন সরবরাহকারী দরকার। তাঁর মতে, কমাকের প্রবেশ একটি স্বাগত সংযোজন।
চীনা সরকারের শক্ত সমর্থন ও তুলনামূলক কম দামের কারণে কমাকের বিমান উদীয়মান বাজারের স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইনগুলোর কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। ফিলিপাইনের সেবু প্যাসিফিকের প্রধান নির্বাহী মাইক শুচ বলেন, ভবিষ্যতে তারা আরও প্রতিযোগিতা দেখতে চান এবং ২০৩০-এর দশকে কমাকের বিমান তাদের জন্যও আকর্ষণীয় হতে পারে।
কমাক ইউরোপীয় সার্টিফিকেশন পাওয়ার চেষ্টাও করছে, যার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সি৯১৯-এর পরীক্ষামূলক উড়ান চালাচ্ছে। তবে ইউরোপে অনুমোদন পেতে ২০২৮ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি চীনা ও পশ্চিমা যন্ত্রাংশ, ফ্লাইট কন্ট্রোল ও সফটওয়্যার সমন্বয় করাও একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও পাইলট প্রশিক্ষণের অবকাঠামো গড়ে তোলাও সময়সাপেক্ষ।
এশিয়া-প্যাসিফিকে বোয়িং ও এয়ারবাসের পাশাপাশি ব্রাজিলের এমব্রায়েরও শক্ত অবস্থান রয়েছে। সিঙ্গাপুরের স্কুট, ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের এএনএ এমব্রায়েরের জেট অর্ডার দিয়েছে। একই সঙ্গে বোয়িং ও এয়ারবাস সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে জানাচ্ছে, ডেলিভারি বিলম্ব পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।
কমাকের অর্ডার সংখ্যার স্বচ্ছতাও প্রশ্নের মুখে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, চীনা এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকে তাদের এক হাজারের বেশি সি৯১৯ অর্ডার রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র এক ডজনের মতো সরবরাহ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এসব তথ্য যাচাই করাও কঠিন।
সব মিলিয়ে, এই বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে না পারলে এশিয়া-প্যাসিফিক আকাশে বোয়িং ও এয়ারবাসের আধিপত্যই আপাতত বজায় থাকবে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/