দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আগামী বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬। মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব জানান, এবারের মেলায় সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো স্টল বা প্যাভিলিয়নে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা হলে তারা কোনো পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে না। দর্শনার্থীদের জন্য বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ সরবরাহ করা হবে, যা জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করা হবে।
তিনি জানান, এবছর মেলায় মোট ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। এর মধ্যে ১১টি বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়ন অংশ নিচ্ছে, ফলে মেলাটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হিসেবেই বিবেচিত হবে। স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে। মেলায় ই-টিকিটিং চালু থাকছে। অনলাইনে টিকিট কেটে কিউআর কোড স্ক্যান করেও প্রবেশ করা যাবে।
দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড শাটল বাস সার্ভিসের পাশাপাশি কনসেশনাল রেটে পাঠাও সার্ভিস যুক্ত করা হয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে শাটল বাস চলবে। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে শেষ বাস ছাড়বে রাত ১১টায়।
বাণিজ্য সচিব বলেন, এবার প্রথমবারের মতো মেলায় চালু হচ্ছে এক্সপোর্ট এনক্লেভ। এখানে ‘বেস্ট অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে চামড়া ও জুতা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সাতটি রপ্তানিমুখী খাতের সেরা পণ্য প্রদর্শন করা হবে। বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
মেলায় ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ স্কয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি খাতভিত্তিক সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজন থাকবে, যেখানে বাংলাদেশের পণ্যের গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স তুলে ধরা হবে।
মেলায় ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের সংরক্ষিত স্টল, কুটির, তাঁত, বস্ত্র ও হস্তশিল্পের স্টল থাকছে। শিশুদের জন্য দুটি শিশু পার্ক, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্নার, উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, মসজিদ, মা ও শিশু কেন্দ্র এবং এটিএম বুথের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
দেশি বস্ত্র, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স, কসমেটিকস, হস্তশিল্প, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ নানা ধরনের পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হবে।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। সিসিটিভি, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও ফায়ার ব্রিগেডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী সার্বক্ষণিক কাজ করবেন।
মেলায় প্রবেশ টিকিটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
দেশীয় পণ্যের প্রচার ও বিপণন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯৫ সাল থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হচ্ছে।
এমএস/