দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি এখন অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। একই পথ অনুসরণ করেছে সৌদি আরবও। ফলে বড় দুই বাজার হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সংকটের জন্য দায়ী মূলত ভারতের নিজস্ব নীতি।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত হঠাৎ করে এবং পূর্বঘোষণা ছাড়াই পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে। কয়েক দফা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে ক্রেতা দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজে নেয়। এখন পাকিস্তান ও চীন—দুই দেশ থেকেই বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব।
খাত সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা—ভারতের পেঁয়াজের বীজ অবৈধভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যাচ্ছে, আর সেই বীজ দিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। এর ফলে ভারতের বাজারপ্রাধান্য আরও কমে যাচ্ছে।
একসময় ভারতের মোট রফতানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ যেত বাংলাদেশে। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক বেশি, তারপরও গত আট মাসে খুব কম পরিমাণ পেঁয়াজই ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে। একইভাবে প্রায় এক বছর ধরে সৌদি আরবের আমদানিও কমে গেছে।
ইকোনমিক টাইমস জানায়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার ছয় মাসের জন্য পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে ভারত। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আবার পাঁচ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়। এসব সিদ্ধান্তের কারণে ভারতনির্ভর দেশগুলোতে দাম বেড়েছিল; এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ২০২০ সালে দিল্লিকে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে ঘনঘন নীতিবদলের বিষয়টি জানায়।
বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষার কথা বলে বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি করছে না। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ভারত ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশে, যা মোট রফতানির ৪২ শতাংশ। সেখানে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেউ কেউ কারণ হিসেবে দেখালেও রফতানিকারকদের দাবি—ঘনঘন নিষেধাজ্ঞার কারণেই ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারতীয় পেঁয়াজ থেকে।
এমএস/