দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আইন মেনে ব্যবসা না করলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে জাতীয় ভোক্তা-অধিদপ্তর সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মহাপরিচালক বলেন, যে সব ব্যবসায়ীরা বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখবেন তাদের ভোক্তা দিবসে পুরস্কৃত করা হবে। আর যারা বাজার মূল্য বৃদ্ধি করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আমাদের স্টাডিজি পরিবর্তন করেছি। আমরা গোপনে কাজ করছি। এবার আমরা খুচরা ব্যবসায়ী আর পাইকারদের ধরব না। মার্কেট ও বাজার কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, ক্রেতাদের পণ্যের ভাউচার দিতে হবে ব্যবসায়িদের। ভাউচার নিয়ে ভাঁওতাবাজি চলবে না। ব্যবসায়ীরা আমাদের কমিটমেন্ট দিয়েছেন, ভাউচার দেবেন। কমিটমেন্ট ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা নেব। কথা না রাখলে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এসময় চালের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করে সফিকুজ্জামান জানান, ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধানের দাম বেড়েছে। যেসব চাল বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে, সেগুলো আগের কেনা ধানের চাল।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এই সময়ে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। তখন ধানের দাম কম ছিল। এখন হয়ত ধানের দাম কেজিতে দুই টাকা বেড়েছে। অথচ সেই আগে কেনা ধানের চাল বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আর ধানের দুই টাকার বিপরীতে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে ৮-১০ টাকা। চালের গুদামে গেলে দেখা যায়, বস্তা বস্তা চাল মজুত করে রাখা হয়েছে।
মতবিনিয় সভায় ভোক্তা অধিদপ্তরের ডিজি প্রশ্ন রেখে বলেন, চালের দাম বাড়ার সঙ্গে ব্যবসায়ীরা কি মিলের শ্রমিকের বেতন বাড়িয়েছেন? পরিবহন খরচ কি বেড়েছে? বাড়েনি। তাহলে চালের দাম কেন রাতারাতি বাড়াতে হলো?
আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, এবারের রমজানের আগে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে মানুষজন বেতন পেয়ে যাবেন। আর তখন আমরা মনে করি রমজানের জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। আমরা রোজার দুইদিন আগে সবাই বাজারে চলে যাব। সাধারণত আমাদের মাসে তেল লাগে ৪ লিটার। রমজানে ১০ লিটার ক্রয় করি, এভাবে সবাই কেনা শুরু করেন। তখন রমজানে বাজারের সাপ্লাই প্রভাব পড়ে। বাজারে পণ্যের সাপ্লাই কম থাকলে তখন ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। রমজানের প্রথম দিকে হঠাৎ করে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, আবার রমজানের মাঝে পণ্যের দাম কমে যায়।
ভোক্তার ডিজি আরও বলেন, অনেক অ্যানালাইসিস করে আমরা জানতে পেরেছি বাজারে রপ্তানি পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু আমাদের চরিত্রের কারণে, বাড়তি পণ্য ক্রয় করার কারণে সাপ্লাই চেইনের প্রভাব পড়তে পারে। বাজার থেকে এক সপ্তাহের পণ্য ক্রয় করলে বাজারের সাপ্লাইয়ের প্রভাব পড়ে না।
এফএইচ