দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সারা দেশে গত কয়েকদিন ধরে ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এর প্রভাবে চলছে বৃষ্টি। আর এর প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। তুলনামূলক সবজি কম থাকায় বেশি দাম চাচ্ছেন বিক্রেতারা। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সবজির দাম চলে গেছে নাগালের বাইরে।
শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজি কম, তাই বেশি দামেই আমাদের কিনে আনতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারে শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, যেখানে দুইদিন আগেও ছিল ৪০ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকায়। শীতের সবজি ফুলকপি-বাঁধাকপিও বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
এছাড়াও বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি। দুইদিন আগেও কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
অন্যদিনের তুলনায় বাজারে শাকের পরিমাণও বেশ কম। এক আঁটি লালশাক বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা করে, যা অন্য সময় বিক্রি হতো ১০-১৫ টাকায়। এছাড়া লাউশাক ৫০ টাকা, পালংশাক ২০ টাকা, মুলাশাক ১৫ টাকা আঁটি করে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা কেজি। বাজারে কমেছে প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহও। আর তা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে।
গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম সর্বোচ্চ ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যখন ডিমের হালি ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এরপর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ডিম আমদানির অনুমতি দেয়। দাম কমে ডিমের হালি এখন ৪০-৪২ টাকায় নেমেছে।
বড় বাজারগুলোতে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১২০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি ১০ টাকা পিস। তবে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে এ দাম এখনো ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। ফার্মের মুরগির সাদা রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১১০ টাকায়। এছাড়া হাঁসের ডিমের হালি এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত।
অন্যদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দোকানে গরুর মাংস এখন ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগের চেয়ে কেজিপ্রতি অন্তত ১৫০ টাকা কম। ফলে বাজারে বিভিন্ন মাংস বিক্রেতার দোকানগুলোতে কিছুটা ভিড় দেখা গেছে।
গরুর মাংসের পাশাপাশি গত সপ্তাহে মুরগির দাম কমলেও এ সপ্তাহে তা কিছুটা বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগির কেজি ২৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের দাম কমার প্রভাব পড়েছে মাছের দামেও। পাশাপাশি বেড়েছে মাছের সরবরাহ। গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও কিছুটা কমেছে চাষের মাছের দাম। মাঝারি মানের চাষের পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। বড় আকারের চাষের তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, ছোট আকারের ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। আর মান ও আকারভেদে চাষের রুই মাছের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। তবে চিংড়ির দাম তেমন কমেনি। প্রতি কেজি চিংড়ি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা। শোল মাছের দাম কিছুটা বেড়ে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা হয়েছে। ইলিশ মাছ কেজিপ্রতি দাম হাঁকানো হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।
টি