দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে এখন বড় পতন চলছে। গত প্রায় দুই মাস ধরে টানা কমছে এই দামি ধাতুর দর। বিশ্ববাজারের এই বড় পতনের প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারের সঙ্গে আমাদের দেশের কমার অঙ্কে কিছুটা তফাত রয়েছে।
গত দুই মাসের হিসাব করলে দেখা যায়, বিশ্ববাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণ কমেছে ৩৪ হাজার টাকারও বেশি। অথচ দেশের বাজারে এই সময়ে ভালো মানের স্বর্ণ কমেছে সাড়ে ২৩ হাজার টাকার মতো। অর্থাৎ, বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে ভরিতে স্বর্ণের দাম প্রায় সাড়ে ১০ হাজার টাকা কম কমেছে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের হিসাব হয় আউন্সে। গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ৬৫৮ ডলার, যা কমতে কমতে এখন ৩ হাজার ৯৯৪ ডলারে এসে ঠেকেছে। ডলারের দর ১২৫ টাকা ধরে হিসাব করলে প্রতি আউন্সে কমেছে ৮৩ হাজার টাকা এবং ভরিতে কমেছে ৩৪ হাজার ১৪৯ টাকা।
বাংলাদেশে সোনার দাম নির্ধারণ করে ‘বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা বাজুস। গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১৮ বার সোনার দাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ বার কমানো হয়েছে এবং ৫ বার বাড়ানো হয়েছে। টানা শেষ তিন দফায় দাম কমার পর বর্তমানে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত ২৫ আগস্ট ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। অর্থাৎ দুই মাসে ভালো মানের স্বর্ণ কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা।
স্বর্ণের বেলায় বিশ্ববাজারের চেয়ে দেশের বাজারে কম দাম কমলেও রুপার ক্ষেত্রে চিত্রটি উল্টো। বিশ্ববাজারের অনুপাতে দেশের বাজারে রুপার দাম যতটা কমার কথা ছিল, বাজুস তার চেয়ে অনেক বেশি কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্ববাজারে রুপার দাম ভরিতে ৭৫৭ টাকার মতো কমলেও দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমানো হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনা ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের এই দামের ব্যবধান নিয়ে বাজুসের বক্তব্য হলো, আমাদের দেশে তো স্বর্ণের কোনো খনি নেই, তাই বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভর করেই দাম ঠিক করা হয়। তবে বাজুস স্থানীয় বুলিয়ান মার্কেট বা তেজাবী স্বর্ণের দামের ওপর ভিত্তি করে গহনার দাম সমন্বয় করে থাকে, যে কারণে সব সময় বিশ্ববাজারের হুবহু হার বজায় রাখা সম্ভব হয় না।
অন্যদিকে, বাজুস সভাপতি এনামুল হক দোলন দাবি করেছেন যে, বিশ্ববাজারে যতটুকু দাম কমেছে, দেশের বাজারেও ঠিক ততটুকুই কমানো হয়েছে। দুই হিসাবের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি টেলিফোনে কিছু বলতে নারাজ থেকে সবাইকে বাজুস কার্যালয়ে এসে হিসাব দেখে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
কেএম