দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিলে এবার করদাতাদের জন্য রয়েছে বিশেষ করছাড়ের সুযোগ। তবে এই সুবিধা পেতে হলে আগামী ৪ দিন; অর্থাৎ বুধবারের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে রিটার্নের সঙ্গে যে কর পরিশোধযোগ্য হবে, তার ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা; যেটি কম সেটি করছাড় হিসেবে পাওয়া যাবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন এই বিধান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
তবে নিয়মটির কারণে সারা বছর নিয়ম মেনে অগ্রিম কর পরিশোধ করা করদাতাদের অনেকেই পুরো সুবিধা পাচ্ছেন না। বছরজুড়ে পরিশোধ করা অগ্রিম কর, পেরোল ট্যাক্স বা উৎসে কাটা কর বাদ দেয়ার পর রিটার্ন জমার সময় যে কর পরিশোধ করতে হবে, শুধু সেই টাকার ওপরই করছাড় হিসাব করা হচ্ছে।
যেভাবে করছাড় পাবেন
ধরা যাক, গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো করদাতার করযোগ্য আয় ৭ লাখ টাকা। প্রথম ৪ লাখ টাকার ওপর কর নেই। বাকি ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে করের পরিমাণ ৩০ হাজার টাকা। এই করদাতা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে ৩০ হাজার টাকার ৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১ হাজার ৫০০ টাকা করছাড় পাবেন। ফলে তাকে ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
কারা করছাড় পাবেন না
নতুন নিয়মে শুধু রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় পরিশোধযোগ্য করের ওপর করছাড় মিলবে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা পাওয়ার সময় কেটে রাখা অগ্রিম কর, ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের মুনাফা থেকে কেটে রাখা উৎসে কর কিংবা বেতন-ভাতার ওপর প্রতি মাসে পরিশোধ করা অগ্রিম করের ওপর এই ছাড় পাওয়া যাবে না।
অর্থাৎ, সারা বছর অগ্রিম কর বা উৎসে কর হিসেবে পরিশোধ করা অর্থ বাদ দেওয়ার পর রিটার্ন জমার সময় যে কর দিতে হবে, করছাড়ের হিসাব হবে মূলত সেই অর্থের ওপর।
এখন পর্যন্ত কত রিটার্ন জমা পড়েছে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। চলতি করবর্ষের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে। সেপ্টেম্বরের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গত অর্থবছরে মোট ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছিল।
কত ছাড়, কী শাস্তি
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যা কম তাই ছাড় পাবেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন যা কর, তা দিলেই হবে। কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।
আর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।
পাঁচ শ্রেণির করদাতা ছাড়া গতবারের মতো এবারও সব করদাতাকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে।
/অ