দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে বড় ধরনের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এ লক্ষ্যে করের আওতা বাড়ানো, কর পরিপালন জোরদার, ডিজিটাল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য ‘ওয়ান এনবিআর’ কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগ আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তে সমন্বিতভাবে করদাতা ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। এর মাধ্যমে করদাতার তথ্য, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কর পরিশোধ ও বকেয়া রাজস্বের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলোকে আরও বেশি সমন্বিত করা হবে।
গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরে সংস্কার ও সংস্থাটির সক্ষমতা বৃদ্ধির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এতে সরকারি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে সরকারি ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে এনবিআরের সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ঘাটতি কমাতে নেওয়া পদক্ষেপ, এনবিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
এনবিআর বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে শুধু করের হার বাড়ালেই হবে না। এর জন্য করের আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো, প্রযুক্তি ও তথ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও করদাতাদের কর পরিপালন নিশ্চিত করা জরুরি।
এনবিআরের রূপরেখায় কর-জিডিপি অনুপাত স্বল্পমেয়াদে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজস্ব প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও করদাতা সেবা বাড়ানোকে রাজস্ব বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনবিআর।
উপস্থাপনায় বলা হয়, সরকারের মোট রাজস্বের প্রায় ৮৬ শতাংশ বর্তমানে এনবিআর থেকে আসে।
এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আহরণের প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ জোরদার করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এ সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।
এনবিআর বলছে, দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাত এখনও সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় ২০৩৫ সালের মধ্যে অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কেএম