দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ২৮৭ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমেছে। এর আগে সোমবারও বড় পতন হয়েছিল স্বর্ণের দামে। ফলে ৭ আগস্টের পর এখন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও কমেছে। এদিন তা দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২৮ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সোনার দাম কমছে কেন
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরির অন্যতম কারণ তেলের দাম বৃদ্ধি। তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায়।
বিশ্ববাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। দুই দিনের বৈঠক শেষে আগামী বুধবার ফেড তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত জানাবে।
বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, ফেড ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়াতে পারে। এতে নীতিগত সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে যেতে পারে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে সুদবাহী সম্পদে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীরা সুদ থেকে আয় করতে পারেন। ফলে সুদের হার বাড়ার সময় স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়।
এ কারণেই সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে
স্বর্ণের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, আগস্টে দেশটিতে ভোক্তা মূল্য বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল সূচকও চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
এতে সুদের হার নিয়ে বাজারে আরও সতর্ক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দীর্ঘ সময় সুদের হার তুলনামূলক বেশি রাখতে হতে পারে, এমন আশঙ্কা তৈরি হলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের ভরি কত টাকা?
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ২৮৭ দশমিক ৬৯ ডলার হলে প্রতি ভরির দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৬০৭ দশমিক ৯১ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ ডলার ১২৩ টাকা ধরে এর মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ টাকা।
হিসাব অনুযায়ী, ১ ট্রয় আউন্স সমান ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম এবং ১ ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬৩৮ গ্রাম।
অর্থাৎ আন্তর্জাতিক স্পট দরে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ টাকা।
এমএম/