দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এলজিইডিরই এক কর্মকর্তার দুদকে করা অভিযোগে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বেলাল হোসেন এলজিইডিতে যোগদান করার পর বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশে প্রায় ৪০টি কাজ না করিয়েই শতভাগ বিল উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) পদে থাকার সময় না করা রাস্তাগুলোর ওপর পুনরায় বরাদ্দ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন। তবে এখনো সে সময়ের বহু ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ অসম্পন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব পালনকালে বেলাল হোসেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুপারিশে প্রায় ১১২৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এলজিইডিতে নিয়োগ দেন। এসব নিয়োগের বিপরীতে পদভেদে জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। একই সময় তিনি সার্ভেয়ারদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে নিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে), ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়ন করেন। এমনকি কার্য সহকারীকেও উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ৪১২ জনকে এভাবে অবৈধভাবে পদোন্নতি দিয়ে বেলাল হোসেন ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পাশাপাশি জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে অবৈধ বদলি বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলজিইডির মাঠপর্যায়ের দুর্নীতি ‘স্বর্ণযুগে’ পৌঁছায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তার সময় যত ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উপস্থাপিত হয়েছে তার কোনটিরই তিনি বিভাগীয় মামলা রুজু করেননি। এসব পরিস্থিতিতে দুদক একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে একযোগে তিন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বেলাল হোসেন রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ২৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনেন। এছাড়া পূর্বাচলে ৫ কাঠার একটি প্লট, রংপুর জেলার ধাপ এলাকায় ৬ কাঠা জমির ওপর দুই ইউনিটের পাঁচতলা বাড়ি, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় প্রায় ২১০ বিঘা কৃষিজমি এবং রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় ১৫০০ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি।
এ বিষয়ে বেলাল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
/অ