দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফরিদপুরের মধুখালী স্কুলে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু মুরসালিন (১১) হত্যা মামলার রহস্যের জট খুলেছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে এই জট খুললো।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পাড়ে সরদারপাড়া কালী মন্দিরের পাশে গত ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় মাথার খুলিসহ মানবদেহের ৭০ পিছ হাড়গোড় উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক সৈয়দ তোফাজ্জেল হোসেন বাদী হয়ে মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের ওপর ন্যাস্ত করে। এরপর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মামলাটির তদন্ত ভার দেন এস.আই (নিঃ) রামপ্রসাদ ঘোষের ওপর ।
দায়িত্ব পেয়েই এস.আই রামপ্রসাদ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ওই হাড়গোড়ের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে আশাপুর এলাকার ইতি খাতুন ও তার স্বামী মো. আশরাফুল শেখের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি বাংলাদেশ পুলিশ, মালিবাগ ঢাকায় পাঠান। ডিএনএ পরীক্ষায় অজ্ঞাত মরদেহের হাড় থেকে একজন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়।
শিশু মুরসালিনের স
ওই পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় অজ্ঞাত মরদেহ আশরাফুল শেখ এবং মোসা. ইতি খাতুন দম্পতির সন্তান মুরসালিনের (১১) ।
প্রমাণ সংগ্রহের পর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত মুরসালিনের সৎ পিতা মো. মিজানুর রহমানকে গত ২৩ জুলাই মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার ওয়াবদা মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
ফরিদপুরের পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদঘাটনের জন্য একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা হয়। নিহত মুরসালিনের হত্যাকারী তারই সৎ পিতা মো. মিজানুর রহমানকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি মো. মিজানুর রহমান তার সৎ ছেলে মুরসালিনকে হত্যার দায় স্বীকার করে ৫নং আমলী আদালতের বিচারক মো. ফরিদ উদ্দীনের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন।
মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।