দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকার গুলশানে এক ভবঘুরে নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিন অপ্রাপ্তবয়স্কসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৪ জানুয়ারি) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান এ তথ্য জানান।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গুলশানের নদ্দা এলাকার মোড়েল বাজারের মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী মাদরাসার সামনে ওই নারীকে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিও দেখা যায়, শীতের পোশাক পরা এক নারী খুঁটির সঙ্গে বাঁধা। তার গায়ে ছোট বালতি ও মগ দিয়ে পানি ঢালছেন দুজন। নারীর অভিব্যক্তি দেখে বোঝা যাচ্ছে, ঠান্ডা পানির ঝটকা তিনি সামলাতে পারছেন না। তার কষ্ট হচ্ছে। যারা পানি ঢালছেন, তাদের মুখে হাসি। কয়েকজন জটলা করে দেখছেন। একজন মুঠোফোনে ভিডিও করছেন।
পুলিশের কাছে মাদরাসার লোকজন জানান, সেদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে মাদরাসার দুই শিশুশিক্ষার্থী দেখতে পায়, ওই নারী মাদরাসার লোকমান নামের একজন শিক্ষকের কক্ষে তার হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিচ্ছেন। শিশুশিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে পাশের কক্ষ থেকে একরাম নামের আরেক শিক্ষক বেরিয়ে আসেন এবং ওই নারীকে আটক করেন। ওই নারীকে তারা পুলিশে সোপর্দ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এত সকালে ‘পুলিশ কোথায় পাবেন’—সেই চিন্তা করে নারীকে নিজেরাই ‘শাস্তি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শাস্তির প্রক্রিয়া হিসেবে নারীকে বেঁধে পানি ঢেলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন ওই নারীকে উত্তরাগামী একটি বাসে তুলে দেন।
দল বেঁধে ওই নারীর ‘শাস্তি’ দেখতে থাকা কেউ একজন ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পুলিশ ভিডিও দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে। তবে ওই নারীকে এলাকার কেউ চিনতে পারেননি। ওই নারী ওই এলাকার নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত ওই নারীকে শনাক্ত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে গুলশান থানার ওসি রাকিবুল বলেন, নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে হেনস্তার ঘটনায় কেউ কোনো মামলা করেননি। আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পাঁচজনকে আটক করেছি। তাদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
আটকরা মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী মাদরাসার শিক্ষার্থী। তাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, ওই নারী ভবঘুরে। তিনি ওইদিন সকালে মাদরাসায় ঢুকেছিলেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। পরে অভিযুক্তরা তাকে চুরির অভিযোগে আটক করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে দেয়।
আরএ