দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাম্প্রতিক কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অস্বাভাবিক দ্রুততায় নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করা হয়েছে।
ইউজিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির ইতিহাসে এত দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া আগে দেখা যায়নি। তাদের অভিযোগ, পুরো কার্যক্রমটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সন্দেহজনক। তবে ইউজিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।
গত ১১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ইউজিসির এক স্মারকের মাধ্যমে ৯ম গ্রেডের ২২ জন কর্মকর্তাসহ মোট ৩৮টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত বেতন স্কেল ছিল ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা। বিজ্ঞপ্তিটি ইউজিসির ওয়েবসাইটের পাশাপাশি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি পদের জন্য এসএসসি ও এইচএসসিতে তুলনামূলক উচ্চ জিপিএ নির্ধারণ করা হয়। এসব যোগ্যতা অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক দাবি করে চাকরিপ্রার্থীরা সরকারের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থায় অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ সেপ্টেম্বর যোগ্যতা শিথিল করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইউজিসি।
সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির পর টেকনিক্যাল পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করা হয়। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এমসিকিউ পরীক্ষা, ফল প্রকাশ, মৌখিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত নির্বাচন সম্পন্ন হয়। পরদিন বিশেষ কমিশন সভায় এসব নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এত দ্রুততার কারণ সম্পর্কে ইউজিসির পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সহকারী সচিব ও সহকারী পরিচালক পদের এমসিকিউ পরীক্ষা, যেখানে সাত হাজারের বেশি প্রার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল, তা ১৯ ডিসেম্বর স্থগিত করা হয়। পরে পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১৬ জানুয়ারি ২০২৬। একই সময়ে কিছু পদের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ায় দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণের অভিযোগ ওঠে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ইউজিসি সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভূমিকার কারণে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিয়োগে সুবিধা পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই প্রেক্ষাপটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে গত ২৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অস্বাভাবিক দ্রুত, বৈষম্যমূলক ও স্বচ্ছতাবিহীন উল্লেখ করে সম্ভাব্য দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
ইউজিসির অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিপুলসংখ্যক নতুন নিয়োগের ফলে ভবিষ্যতে তাদের পদোন্নতির সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার তাড়াও বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক উচ্চশিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। এ বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এমএস/