দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের অন্যতম মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে জনপ্রিয় সাউথইস্ট ব্যাংক। জুলাই-আগস্ট বিপল্বের পর দেশের অনেক ব্যাংকই খড়ায় চলছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়েও বের হচ্ছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ফাঁস হয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক নিয়ে, প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নানা অপর্কর্ম। যেখানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের নামে বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে জমি কিংবা অফিস স্পেস ক্রয় থেকে শুরু করে, অবৈধ ঋণ বাণিজ্যের মতো অগণিত দুর্নীতির তথ্য।সাউথইস্ট ব্যাংকের শাখা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত রাজধানীর বাংলামোটরের রুপায়ন ট্রেড সেন্টারে।
বিভিন্ন প্রত্রিকার তথ্যে পাওয়া যায় যে, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি রুপায়ন ট্রেড সেন্টারের ১১ তালায় ৫ হাজার বর্গফুটের অফিস স্পেস ক্রয় করে। সেসময় ব্যাংকটি প্রতি বর্গফুট জায়গা কিনেছিলেন ৩০ হাজার ২২৬ টাকা দরে। তবে রুপায়ণ এই একই জায়গা তখন বিত্রি করছিলো ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা দরে।
মূলতো বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে অফিস স্পেস ক্রয় করে, প্রতিষ্ঠানটির অসাধু কিছু কর্মকর্তারা করেছেন বিশাল দুর্নীতি। এমন অবিশ্বাস্য দামে এই অফিস স্পেস ক্রয় করার বিষয়ে, প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জানান, এর সবই হয়েছে উপর মহলের ইচ্ছায়। এদিকে এমন প্রক্রিয়ায় ২০১৭ সালেও আবার সাউথ ইস্ট ব্যাংক, আগের স্পেসের পাশে আরও সাড়ে ছয় হাজার বর্গফুট জায়গা ক্রয় করেন, সেখানে দুর্নীতির পরিমাণ ছিলো আরো বেশি।
রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারই নয়, ঢাকার মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এবং চট্টগ্রামের মোমিন রোডে বাজার দরের তিন থেকে চার গুণে বাণিজ্যিক স্পেস কেনা হয় মার্চেন্ট ব্যাংকটির নামে। এছাড়া গাজীপুরে বাজারদরের তুলনায় বেশি মূল্যে ১০৯ কাঠা জমি কিনার তথ্য পাওয়া যায় প্রতিষ্ঠানটির নামে। এসব স্পেস ও জমি কেনায় লুটপাট করা হয়েছে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা। এদিকে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে মাস্টামাইন্ড হিসেবে নাম উঠে এসছে সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবিরের।
অন্যদিকে শুধু অফিস স্পেস কেনার দুর্নীতিতেই থামেনি ব্যাংকটির অসাধু কর্মকর্তারা। আলোচিত শেয়ার কারসাজির হোতা আবুল খায়ের হিরোসহ কয়েকজনের যোগসাজশে গেল কয়েক বছরে নেগেটিভ ইক্যুইটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও প্রায় ২০০ কোটি টাকা লুট করেন তারা।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কর্মকর্তারা নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের নামেও অ্যকাউন্ট খুলে করেছেন অবৈধ মেয়ার ব্যবসা। নানা সূত্রে এসব বেনামি বা আত্মীয়ের নামে ২০টির অধিক বিও অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়। অনিয়মের তথ্য সামনে উঠে আসে, যখন দেখা যায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সিংহভাগই আছে লোকসান, তবে বেনামি এসব অ্যাকাউন্টে হয়েছে কোটি কোটি টাকান মুনাফা। এছাড়া ঋণযোগ্য নয়, এমন অ্যাকাউন্টেও ঋণ দিয়েও বেপোরোয়া গতিতে চলেছে দুর্নীতি।
সাউথি ইস্ট ব্যাংক নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্টানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু বকর, চিফ অপারেটিং অফিসার হুমায়ূন কবির, হেড অব কমপ্লায়েন্স ইবনে রিয়াজ, পোর্টফোলিও ম্যানেজার এফএভিপি রাজীব আহমেদের নামে। এছাড়া অভিযোগের তালিকায় আরও আছেন আলমগীর কবির ও মফিজউদ্দিনের নামও।
সাউথি ইস্ট ব্যাংক নিয়ে চলমান এসব হরিলুটের পরও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা বিভাগ কখনও এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। এমনকি বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিএসইসিও চুপ ছিল। তবে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল হোতা আলমগীর কবির চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার পর সাউথইস্ট ব্যাংক ও বিএসইসি বর্তমানে তদন্তে নেমেছে।
কে