দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি (ডলার) আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একজন সহকারী কমিশনার (এসি) এবং দুজন সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
ক্লোজড হওয়া দুই এএসআই হলেন - সিএমপির ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের (এলআইসি) বাছির উদ্দিন ও রেশন স্টোরের আবু সুফিয়ান। আর প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তা হলেন- এলআইসির সহকারী কমিশনার শরিফুল আলম সুজন। নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে এসি শরিফুল আলমের নেতৃত্বে সাদা পোশাকধারী একদল পুলিশ হালিশহরের কে ব্লকের একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল (২৭) ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নেয়। একটি টয়োটা করোলা গাড়িসহ তাদের সিএমপির এলআইসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য একটি ডিভাইসে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী শাকিলের অভিযোগ, তার ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়া এবং তাদের জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এসি শরিফুল ও এএসআই বাছির। পরে শরিফুল ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার স্থানান্তর করতে বাধ্য করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
শাকিল আরও অভিযোগ করেন, ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিন কনস্টেবল তাকে সিএমপির কাছে একটি ব্যাংকের বুথে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচ দফায় ৪ লাখ টাকা তুলতে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া এলআইসি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট থেকেও ৮০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়।
দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা একটি সাদা কাগজে তাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে সেখানে সই নেন। পরে তাদের ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই দিন রাত ১২টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের প্রাইভেট কার ফিরিয়ে দিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কে