দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলা প্রত্যাহার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন করেছেন কর্মরত সাংবাদিকরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ‘সত্য প্রকাশে কলম চলবে’ স্লোগানে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। দেশ টিভির লালমনিরহাট প্রতিনিধি জামাল বাদশার সঞ্চালনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মামলায় অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি এস কে সাহেদ এবং দৈনিক নয়া দিগন্ত মাল্টিমিডিয়ার প্রতিনিধি জুবাইর আহমেদ খান রোহান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সমবায় সমিতিটির বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ ধরনের মামলা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বাধা সৃষ্টি এবং সাংবাদিকদের হয়রানির অপচেষ্টা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে সেতু সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি বলেন, সমাজের নানা অসঙ্গতি ও অনিয়মের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
৭১ টেলিভিশনের প্রতিনিধি মিলন পাটোয়ারী বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যারা অপসাংবাদিকতা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাঁদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের বিভাগীয় সভাপতি ও লালমনিরহাট জেলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস আর রতন বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা বা ভয়ভীতি দেখানোর যেকোনো অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। সত্য প্রকাশের কারণে হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
প্রেস ক্লাব লালমনিরহাটের সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল স্বাধীন সাংবাদিকতার গতি থামিয়ে দিতে নানা অপতৎপরতায় মেতে উঠেছে। তাঁদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সিনিয়র সাংবাদিক গকুল রায় বলেন, পেশাদার সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা সৃষ্টি করা নামধারী হলুদ সাংবাদিকদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং লালমনিরহাটে সাংবাদিকদের জন্য স্বাধীন ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
এমএস/