দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীতে মামলার আসামি না হয়েও ২০ দিন কারাভোগের পর জামিন পেয়েছেন মো. জলিল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। পুলিশের পরিচয় শনাক্তকরণে ভুলের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক জলিল হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১৯ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মহিপুর শিববাড়িয়া এলাকার মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন। মামলার নথি অনুযায়ী, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়।
ওই মামলায় আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম মিলে যাওয়ায় মো. জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে কারাভোগ করা জলিল হাওলাদারের সঙ্গে মামলার আসামি জলিল হাওলাদারের মায়ের নাম ভিন্ন। কারাভোগ করা জলিলের মায়ের নাম হালিমা খাতুন, আর মামলার আসামির মায়ের নাম মাজেদা। অর্থাৎ নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম একই হলেও মায়ের নাম আলাদা।
কারাভোগ করা জলিল হাওলাদারের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁর শ্বশুরের কোনো ব্যাংক হিসাবই নেই, চেকের তো প্রশ্নই আসে না। এরপরও তাঁকে ২০ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। পুলিশের এমন ভুলের জন্য তাঁরা ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
জলিল হাওলাদারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে তাঁর মক্কেলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে, যার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সোমবার আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছেন। একই সঙ্গে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদালতে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়। সোমবার আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন। ভবিষ্যতে পরোয়ানা তামিলের ক্ষেত্রে যাতে এমন ভুল না হয়, সে জন্য আসামির পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এমএস/