দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সরকারি মোবাইল নম্বর প্রায় ২০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীর স্বজন কিংবা তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে গিয়ে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে অনেককেই বিকল্পভাবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের ফোন করতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট বিকেলে জরুরি বিভাগের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাসলিম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন তিনি জানান, মোবাইলের ব্যাটারির সমস্যার কারণে কয়েকদিন ধরে ফোনটি বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এটি ঠিক করার কথা জানান তিনি।
সরকারি একটি জরুরি নম্বর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের প্রশ্ন, জরুরি প্রয়োজনে রোগীর স্বজনরা যদি হাসপাতালের সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করতে চান, তাহলে কীভাবে করবেন? একটি সরকারি জরুরি নম্বর প্রায় ২০ দিন বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
সেবা প্রত্যাশী প্রকৌশলী আলমগীর কবির বলেন, একজন রোগীর খবর নিতে জরুরি বিভাগের ফোন নাম্বারটি গুরুত্বপূর্ণ তাই সরকার একটি নাম্বার ও ফোন সরবাহ করেছে। কিন্তু সেটিই বন্ধ, তাও আবার ২০ দিন ধরে। এই সিচুয়েশন গুলোতেই মানুষ তাদের মেজাজ হারায় আর তখন সুশীলরা বংশ আর পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে কথা বলে। আসলে পরিস্থিতিই আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়, পারিবারিক শিক্ষা না।
শেরপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেল বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের অনেক জরুরি তথ্যের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফোন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই ফোনটি বন্ধ, এটা কতৃপক্ষের উদাসীনতা কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এদিকে ২৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে এবং ১ সেপ্টেম্বর জরুরি বিভাগের ওই নম্বরে ফোন করা হলেও দুদিনই সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য নিতে জরুরি বিভাগের নম্বরে ফোন করা হলে তখনও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এক ঘণ্টার ব্যবধানে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেনের স্ত্রী ডা. সাথীর সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বিষয়টি জেনে জানাবেন বলেও জানান তিনি।
পরে আবার যোগাযোগ করা হলে ডা. সাথী জানান, হাসপাতালের সিমের এমওয়াইএস সমস্যার কারণে ফোনটি বন্ধ রয়েছে। নতুন করে সিম রিপ্লেস করা হবে এবং সেটি জামালপুর থেকে আনা হবে। তবে ফোনটি কবে থেকে বন্ধ রয়েছে এ বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান। কে বিষয়টি দেখেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার দায়িত্ব না, এটা ইমারজেন্সি থেকে দেখেন।
এদিকে মোবাইলের ব্যাটারি নষ্ট, নাকি সিমের সমস্যার কারণে ফোনটি বন্ধ এ বিষয়ে জানতে আরএমও ডা. তাসলিম আরিফের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রথমে ব্যাটারি সমস্যা ছিল, পরে সিমের সমস্যা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক চিঠি লিখেছেন। বৃহস্পতিবারে হয়েছে, হয়তো আগামীকাল এটি ঠিক হয়ে যাবে আশাকরি । তবে এতদিন ধরে মোবাইল বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফোনটা তো আমার কাছে থাকে না, এটা ইমারজেন্সিতে থাকে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত বলতে পারি না।
সরকারি নম্বর বন্ধ থাকার বিষয়ে শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন বলেন, সরকারি নাম্বার বন্ধ থাকার কোনো সুযোগ নেই। আমার নিজের নাম্বার সব সময় খোলা। সরকারি টাকায় এই ফোন কাজ চলে। হাসপাতালেরটা বন্ধ রয়েছে, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলে আপনাকে জানাব।
কেএম